আ জা আন্তর্জাতিক ডেক্স
একটি বিশ্বকাপে ১৩ গোল—ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম দুর্লভ কীর্তি এটি। ১৯৫৮ সালে ফ্রান্সের কিংবদন্তি জাস্ট ফন্টেইন যে রেকর্ড গড়েছিলেন, এত বছরেও সেটি অক্ষত রয়েছে।
তবে চলমান বিশ্বকাপে দুর্দান্ত গোল করার ধারায় থাকা লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঘিরে আবারও আলোচনায় এসেছে সেই ঐতিহাসিক রেকর্ড।
ফিফা বিশ্বকাপের ২৩তম আসরে এখন পর্যন্ত মেসি ও এমবাপ্পে—দুজনই করেছেন আটটি করে গোল। তাদের দল ইতোমধ্যে সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে।
ফলে ফাইনালে উঠুক বা না উঠুক, দুজনের সামনেই আরও দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে।
সেমিফাইনালে জয় পেলে খেলবেন ফাইনালে, আর হারলে অংশ নেবেন তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে।
মেসির গোলযাত্রা গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন মেসি।
এরপর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুই গোল করে ২-০ ব্যবধানের জয় এনে দেন। জর্ডানের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে আরও একটি গোল করেন এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
নকআউট পর্বে তিন ম্যাচে তার গোল দুটি। শুধু কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করতে পারেননি তিনি। সব মিলিয়ে তার গোলসংখ্যা এখন আট।
এমবাপ্পেও সমানতালে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পেও আট গোল নিয়ে রয়েছেন সমান উচ্চতায়। গ্রুপ পর্বে নরওয়ের বিপক্ষে গোল না পেলেও সেনেগাল ও ইরাকের বিপক্ষে দুটি করে গোল করেন তিনি।
এরপর শেষ ৩২-এর ম্যাচে আরও দুটি গোল যোগ করেন ফরাসি তারকা। কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালের পথে পরবর্তী দুটি ম্যাচে একটি করে গোল করে নিজের মোট গোলসংখ্যা আটে উন্নীত করেছেন।
কীভাবে গড়েছিলেন ফন্টেইন ইতিহাস? ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে অসাধারণ এক টুর্নামেন্ট কাটিয়েছিলেন জাস্ট ফন্টেইন।
পুরো আসরে তিনি করেছিলেন দুটি হ্যাটট্রিক—একটি গ্রুপ পর্বে, অন্যটি তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে।
গ্রুপ পর্বে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে তিনটি, যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে দুটি এবং স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে একটি গোল করেন তিনি।
পরে কোয়ার্টার ফাইনালে দুটি ও সেমিফাইনালে একটি গোল যোগ করেন। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে একাই চার গোল করে ফ্রান্সকে ৬-৩ ব্যবধানে জয় এনে দেন। সব মিলিয়ে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৩।
রেকর্ড ভাঙা কতটা সম্ভব? এখন পর্যন্ত আট গোল করে ফন্টেইনের রেকর্ড ভাঙার লড়াইয়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন মেসি ও এমবাপ্পে। এছাড়া সেমিফাইনালিস্ট ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন ও জুড বেলিংহ্যামের গোলসংখ্যা ছয়টি করে।
তবে বাস্তবতা বলছে, রেকর্ড ভাঙা মোটেও সহজ নয়। হাতে সর্বোচ্চ দুটি ম্যাচ রয়েছে।
ফন্টেইনের ১৩ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করতে হলে মেসি বা এমবাপ্পেকে আরও পাঁচটি গোল করতে হবে, আর নতুন রেকর্ড গড়তে প্রয়োজন অন্তত ছয়টি গোল।
অন্যদিকে কেন বা বেলিংহ্যামের সামনে চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন। তাই ব্যতিক্রমী এক পারফরম্যান্স ছাড়া ফন্টেইনের ঐতিহাসিক রেকর্ড অক্ষতই থাকার সম্ভাবনা বেশি।