মাহবুবুর রহমান ভূইয়া
রাজধানী ডেমরায় কম দামে স্বর্ণ বিক্রির নামে ওমান প্রবাসী পরিচয়ে এলাকাবাসীর অন্তত অর্ধ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে দুই নারীর বিরুদ্ধে।
তারা মা ও মেয়ে পরিচয়ে ডেমরার পূর্ব হাজিনগর এলাকায় নুরজাহান বেগমের বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। তাদের মধ্যে মায়ের নাম পলি ও মেয়ের নাম তানিয়া।
তাদের সঙ্গে পলির স্বামী পরিচযয়ে মোস্তফা আলী নামে এক ব্যক্তিও বসবাস করতেন।
এদিকে পলি বিগত ১৩ বছর ওমানে কর্মরত ছিলেন বলে এলাকাবাসীদের জানান।
এ বিষয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগী ইতিমধ্যে ডেমরা থানায় পলাতক ওই চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।
তবে এ ঘটনায় ডেমরা থানা পুলিশ ওই চক্রের কাউকে এখন পর্যন্ত আটক করতে পারেনি।
তারা প্রতারণার অভিনব ফাঁদ পেতে বিভিন্ন কায়দায় এলাকার সহজ সরল নারীদেরকে ফাঁসাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে ফাতেমাতুজ জোহরা রত্না নামে ভুক্তভোগী এক নারী ডেমরা থানায় গত ৬ অক্টোবর ওই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।
ওই অভিযোগ সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতারক মা-মেয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর হাজিনগর এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নেন ওমান প্রবাসী পরিচয়ে।
তারপর তারা এলাকার মসজিদ ও গরিব দুঃখী মানুষদের দান করা শুরু করলেন।
এক্ষেত্রে প্রতারকরা সাহায্যের জন্য আশপাশের অসহায় মানুষদের তালিকা প্রস্তুত করার সময় স্থানীয় নারীরা প্রভাবিত হয়ে পড়েন।
আর এ সুযোগে তারা ওই সকল সহজ সরল নারীদের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা নিয়ে ৬ হাজার টাকার নিত্য প্রয়োজনীয় বাজার সদাই দিতেন।
এক পর্যায়ে ওই সকল নারীদেরকে কম দামে স্বর্ণ সরবরাহ করবে বললে আশ্বস্ত করে মা পলি।
আর ওইসব স্বর্ণ ওমান থেকে দান হিসেবে পেয়েছেন বলে জানানো হয়।
এক্ষেত্রে বিদেশি স্বর্ণের নমুনা দেখিয়ে এক লক্ষ টাকা ভরি হিসেবে স্বর্ণ সরবরাহ করবে বলে ভুক্তভোগীদের জানায়।
এতে প্রলুব্ধ হয়ে এলাকার ২০ থেকে ২৫ জন নারী ও কয়েকজন পুরুষ প্রতারক পলিকে অন্তত ৫০ লক্ষ টাকা দেয়।
ভুক্তভোগী রত্না জানায়, পাশের এক বিশ্বস্ত মহিলা আমাকে জানিয়েছেন ওমান প্রবাসী ওই নারী স্বর্ণ বিক্রি করবে অর্ধেক দামে।
আমি তেমন কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রায় পৌনে ৪ লক্ষ টাকা দিয়ে দেই। আমার মতো আরো নারী পুরুষ তাদেরকে টাকা দিয়েছে।
আর এক মাসের মধ্যেই তারা সবার টাকা নিয়ে পালিয়েছে।
আমি থানায় মামলা করতে গেলে তারা প্রথমে অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করেছে, কিন্তু আসামি ধরার ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
এ বিষয়ে ডেমরা থানার ওসি মির্জা তাইফুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।
আর দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই প্রতারক চক্রকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।