নিজস্ব প্রতিবেদক
গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতি সামাল দিতে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
এ জন্য ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ৮৫০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
সোমবার ১৭ আগস্ট সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
সভা শেষে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে এলএনজি কেনার প্রস্তাবটি বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।
আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য মোট পাঁচ কার্গো এলএনজি কেনার বিষয়টি আলোচনায় আসে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ২৩-২৪ আগস্ট ৪০তম, ২৬-২৭ আগস্ট ৪১তম, ২৯-৩০ আগস্ট ৪৩তম, ১-২ সেপ্টেম্বর ৪৪তম এবং ৪-৫ সেপ্টেম্বর ৪৫তম কার্গো সরবরাহের কথা ছিল।
শেষ পর্যন্ত এর মধ্যে দুটি কার্গো কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রথম কার্গোটি ২৩-২৪ আগস্ট দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এতে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ দশমিক ৮৭৮ মার্কিন ডলার।
এই কার্গোর জন্য সরকারের খরচ হবে ৯২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। দ্বিতীয় কার্গোটি ৪-৫ সেপ্টেম্বর সরবরাহ করা হবে। এর প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির মূল্য ২১ দশমিক ৭৭৮ মার্কিন ডলার।
এ কার্গো আমদানিতে ব্যয় হবে ৯২৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ দুই কার্গো মিলিয়ে এলএনজি আমদানিতে সরকারের মোট খরচ দাঁড়াবে ১ হাজার ৮৫০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। আন্তর্জাতিক কোটেশনের ভিত্তিতে প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় এলএনজি দুটি কেনা হচ্ছে।
এ ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর), ২০০৮ এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান অনুসরণের বিষয়টি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দেশের গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান কমাতে সরকার দীর্ঘদিন ধরে স্পট মার্কেটসহ আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এলএনজি আমদানি করে আসছে।
আমদানি করা এলএনজি পুনঃগ্যাসীকরণের পর জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন ব্যবস্থায় যুক্ত করা হয়।
শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাসের চাহিদা পূরণে এই এলএনজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।