আ জা আন্তর্জাতিক ডেক্স
ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থক ও বিক্ষোভকারীদের ব্যাপকভাবে আটকের ঘটনায় জাতিসংঘের উদ্বেগের প্রতিবাদ জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
ভারতের দাবি, এ বিষয়ে জাতিসংঘের মন্তব্য দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপের শামিল।
একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য দেশে বড় আকারের বিক্ষোভের ক্ষেত্রেও জাতিসংঘের সমান মনোযোগ দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছে ভারত।
দিল্লিতে বিক্ষোভের আগে ও চলাকালে আন্দোলনকারী, রাজনৈতিক নেতা, আইনজীবী, সাংবাদিক এবং নাগরিক সমাজের সদস্যদের আটকের খবর প্রকাশ্যে আসার পর জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) উদ্বেগ জানায়।
এর জবাবে ভারত বলেছে, পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ যথাযথ নয়।
শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিয়ে ভারত-জাতিসংঘের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য জাতিসংঘবিষয়ক ভারতের আনুষ্ঠানিক এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত বিবৃতিতে দেশটিকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, ভারতের সংবিধান নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার দিয়েছে।
শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ও মুক্ত গণমাধ্যম এই অধিকার সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতো ভারতেও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারের
ওপর যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ রয়েছে। আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে দেশটির কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি কোনো অভিযোগের প্রতিকার চাওয়ার জন্য সবার আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের মুখপাত্র থামিন আল-খিতান এক বিবৃতিতে দিল্লিতে বড় বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আটকের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিক্ষোভ শুরুর আগে এবং কর্মসূচি চলাকালে আন্দোলনকারী, রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, আইনজীবী ও সাংবাদিকদের আটক করার খবরকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার সম্পূর্ণভাবে সম্মান ও সুরক্ষিত রাখতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
যন্তর মন্তরে সমাবেশের অনুমতি প্রত্যাখ্যান, আটক সিজেপির শীর্ষ নেতারা সিজেপি সমর্থকদের বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
রাজধানীর যন্তর মন্তরে সমাবেশ আয়োজনের অনুমতি চেয়ে দলটির করা আবেদন নাকচ করে দেয় দিল্লি পুলিশ।
বিক্ষোভে অংশ নিতে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর শনিবার সকালে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এবং দলের আরও দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে আটক করা হয়।
এদিকে, দলটির সমর্থকদের রাজধানীতে আসা ঠেকাতে ইন্টারনেট ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
একই সঙ্গে দিল্লি মেট্রো, বাস ও রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করে পুলিশ।
অধিকাংশ বিক্ষোভকারী মুক্ত, আটক ছিলেন শীর্ষ নেতারা বিক্ষোভ ঘিরে আটক হওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিজেপির শীর্ষ নেতারা এবং ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি তখনো আটক ছিলেন।
ঘটনাটি ঘিরে ভারতের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার যুক্তি এবং নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
একদিকে নয়াদিল্লি আইন প্রয়োগ ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে, অন্যদিকে জাতিসংঘ বিক্ষোভকারীদের অধিকার সুরক্ষার ওপর জোর দিয়েছে।