এস এম মিজান
মরদেহের মুখে টেপ মারা ছিল, পরনে ছিল অটোরিকশা চালকদের ইউনিফর্মের মত নীল রঙের শার্ট আর লুঙ্গি।
পুরো এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে নিরাপত্তা ক্যামেরা আছে। এর মধ্যে সেখানে কীভাবে মরদেহ এল তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।
শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) পরে বনানী থানার পুলিশ বলেন, আঙুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
ইসমাইল ডেল্টা স্পিনিং মিলে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করতেন। ৯ মাস আগে অসুস্থতার কারণে চাকরি ছেড়ে দেন।
চাকরি ছাড়ার পরেও গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকায় স্ত্রী, দুই সন্তান ও ছেলের বউকে নিয়ে বসবাস করতেন।
কিন্তু মাস চারেক আগে জামালপুরে গ্রামের বাড়িতে ফিরে যান, সেখানে তার মা ও বড় বোন থাকেন।
ইসমাইলের ছেলে হাসান বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৩ টার দিকে গাজীপুরে যাওয়ার উদ্দেশে জামালপুর থেকে রওনা হয়েছিলেন তিনি।
রাত ১১ টার দিকে বাবা আমাকে ফোনে জানান, সকালে তিনি এসে পৌঁছাবেন। আমার ছোট বোন শারমিনের বিয়ের কথা-বার্তা চূড়ান্ত করতেই বাবা ঢাকায় আসছিলেন।
এসেই দিন তারিখ ঠিক করার কথা ছিল।’মেয়ের বিয়ের জন্য গ্রামের ১১ শতাংশ জমি সাড়ে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেছিলেন বলেও তথ্য দেন নিহতের ছেলে হাসান।
তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে আগের ২ লাখ টাকার ঋণ শোধ করেন। কিছু টাকা দিয়ে গ্রামে একটি ঘর দেন।
বাকি ৫ লাখ টাকা নগদ নিয়ে এবং কিছু বাজার করে গাজীপুরে আসছিলেন তিনি।
সাথে একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন ও একটি বাটন ফোনও ছিল, কিন্তু কিছুই পাওয়া যায়নি।’ সকালে ইসমাইলের গাজীপুরের জিরানীতে নামার কথা ছিল।
সেই অনুযায়ী ছেলে রাসেল সকালে জিরানীতে গিয়ে বাবাকে অনেকবার ফোন দিয়েও বন্ধ পেয়েছেন। পরে বনানী থানা থেকে বিষয়টি জামালপুর পুলিশকে জানানো হয়।
সেখান থেকে খবর পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে বাবার লাশ পান রাসেল।