শাহ কামাল সবুজ
পুলিশ ডিপার্টমেন্টের প্রতিটি সদস্য আমাদের কারো বাবা, মা, কারো ভাই, বোন, কারো চাচা,
মামা,,,, এরা কেউ ভিন গ্রহ থেকে আসেনি। অনেক লেখা পড়া, রিটেন ভাইভা, হাইট, ওয়েট, শারীরিক পরীক্ষা, নীরিক্ষা তারপর বিশেষ ট্রেনিং যাছাই বাছাই এসবে উত্তীর্ণ হয়েই তবে একজন ব্যক্তিকে পুলিশ হতে হয়।
পুলিশদের ব্যাপারে মুখোরচক যে যাই বলুক বিপদে পড়লে আমাদের পুলিশের কাছেই সাহায্যের জন্য যেতে হয়। বেশি না দেশের পুলিশ যদি দুদিনের জন্য ডিউটি অফ করে দেয় তখন এই জাতি বুঝবে পুলিশ আমাদের কতো প্রয়োজন।
২০২৪ একটা বিশেষ গোষ্ঠীর ইন্ধনে ছাত্র জনতা নামে কিছু অর্বাচীন দেশের এই সুশৃঙ্খল পুলিশ বাহিনীর উপর যা করেছে জাতির ইতিহাসে তা আজীবন কলঙ্কিত অধ্যায় হয়ে থাকবে।
বর্তমান পুলিশের কিছু কিছু কাজ দেখে মনে প্রশ্ন জাগে তারা কি ভুলে গেছে তাদের উপর সংগঠিত নিকটতম ঘটনা গুলো। - নীচের চিত্রটি কোন সিনেমার দৃশ্য নয়।
দুই আনার এসব পুচকে ছেলেরা এতগুলো অফিসারের সামনে ডিউটি অফিসারের টেবিলে পা উঠিয়ে যেভাবে ঔদ্ধত্য দেখিয়েছে তা কি পুলিশের কখনো ভোলা উচিৎ..? থানা জ্বালিয়ে দেয়া, অস্ত্র লুট করা, কর্তব্যরত পুলিশদের কে হত্যা করা, পুলিশদেরকে পুড়িয়ে মারা, ব্রীজের রেলিংয়ে ঝুলিয়ে মারা ভুলে গেছে কী এসব পুলিশ..??
আমি ভুলতে পারিনি চোখে দেখা এসব দৃশ্য! কখনো ভুলব না। পুলিশ পরিবারেই বেড়ে উঠেছি আমি।
জীবনে খুব বেশি খারাপ পুলিশ চোখে পড়েনি আমার। (যে খারাপ পরিবার থেকে এসেছে তার কথা ভিন্ন)। সবিশেষ বলব, পুলিশের আগের সন্মান এখন হারিয়ে গেছে।
ডিপার্টমেন্টের ঐতিহ্য প্রায় এখন ভূলুণ্ঠিত। ইতিহাসের বিকৃত চরিত্র গুলোকে যে যতো তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের চোখে দেখে ক্ষমা করেছে সে ততো মরেছে।
সুতরাং কঠিন হোন। এইসব অর্বাচীন ও তাদের দোসরদের যতদিন শাস্তি না দিতে পারবেন।
তাদের কন্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে না দিতে পারবেন, তারা তাদের নাতি, নাতনীদের কাছে গল্প করে যাবে, আমরা পুলিশদের এই করেছি, সেই করেছি।
তখন কিন্তু তাদের গল্পে ব্যক্তি নয় পুরো পুলিশ ডিপার্টমেন্টের অণুষঙ্গ চলে আসবে।
এটা অস্তিত্বের লড়াই সুতরাং আপনি ব্যক্তি নয় দল নয় একটা প্রতিষ্ঠানের হয়ে উঠুন। পুরো প্রতিষ্ঠানের সন্মান রক্ষা করে বাঁচুন। লেখক : শাহ কামাল সবুজ (কবি ও সাংবাদিক)।