Amaderjagaran || Daily Newspaper In Bangladesh

শিরোনাম:

চীন সফরের পর ঢাকায় ‘র’ প্রধান...পরাগ জৈন আপা যে পথে হেঁটেছেন,এখন আপনারাও সেই পথে হাঁটছেন...জামায়েত আমির প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ভারতীয় হাইকমিশনার বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুনর্বাসন করেছিল স্বৈরশাসক খুনি জিয়া জুলাই আন্দোলনে ৫৯ বিশ্ববিদ্যালয়ে থ্রিজি-ফোরজি ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ ছিল জুলাই আন্দোলনে ৫৯ বিশ্ববিদ্যালয়ে থ্রিজি-ফোরজি ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ ছিল জুলাই আন্দোলনে ৫৯ বিশ্ববিদ্যালয়ে থ্রিজি-ফোরজি ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ ছিল জুলাই আন্দোলনে ৫৯ বিশ্ববিদ্যালয়ে থ্রিজি-ফোরজি ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ ছিল জুলাই আন্দোলনে ৫৯ বিশ্ববিদ্যালয়ে থ্রিজি-ফোরজি ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ ছিল জুলাই আন্দোলনে ৫৯ বিশ্ববিদ্যালয়ে থ্রিজি-ফোরজি ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ ছিল
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)
বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুরষ্কৃত করে

বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুনর্বাসন করেছিল স্বৈরশাসক খুনি জিয়া

মো: ওমর ফারুক বিএস এল

প্রকাশ : রবিবার, ৯ আগস্ট,২০২৬, ০৬:০৭ পিএম
বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুনর্বাসন করেছিল স্বৈরশাসক খুনি জিয়া

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুরষ্কৃত করে বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুনর্বাসন করেছিল স্বৈরশাসক খু*নি জিয়া।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যাকারীদের পুনর্বাসনে দেশে-বিদেশে সহযোগিতা করেছে জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং তাদের দল বিএনপি ও জাতীয় পার্টি।

পঁচাত্তরের হত্যাকাণ্ডের পরপরই খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরির নিয়োগপত্র ঢাকা থেকে লিবিয়ায় পৌঁছে দিয়েছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন কর্মকর্তা ও পরবর্তীকালে পররাষ্ট্র সচিব সমশের মবিন চৌধুরী।

এ বিষয়ে তিনি সময়ের আলোর কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ের তথ্যানুযায়ী, ১৯৭৬ সালের ০৮ জুন বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার দায়ে অভিযুক্ত হত্যাকারী গোষ্ঠীর ১২ জনকে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দেওয়া হয়েছিল।

তারা হলো ১. লে. কর্নেল শরিফুল হককে (ডালিম) চীনে প্রথম সচিব, ২. লে. কর্নেল আজিজ পাশাকে আর্জেন্টিনায় প্রথম সচিব, ৩. মেজর একেএম মহিউদ্দিন আহমেদকে আলজেরিয়ায় প্রথম সচিব, ৪. মেজর বজলুল হুদাকে পাকিস্তানে দ্বিতীয় সচিব,

৫. মেজর শাহরিয়ার রশিদকে ইন্দোনেশিয়ায় দ্বিতীয় সচিব, ৬. মেজর রাশেদ চৌধুরীকে সৌদি আরবে দ্বিতীয় সচিব, ৭. মেজর নূর চৌধুরীকে ইরানে দ্বিতীয় সচিব, ৮. মেজর শরিফুল হোসেনকে কুয়েতে দ্বিতীয় সচিব, ৯. ক্যাপ্টেন কিসমত হাশেমকে আবুধাবিতে তৃতীয় সচিব,

১০. লে. খায়রুজ্জামানকে মিসরে তৃতীয় সচিব, ১১. লে. নাজমুল হোসেনকে কানাডায় তৃতীয় সচিব, ১২. লে. আবদুল মাজেদকে সেনেগালে তৃতীয় সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

তাদের নিয়োগপত্র ঢাকা থেকে লিবিয়ায় পৌঁছে দিয়েছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন কর্মকর্তা ও পরবর্তীকালে পররাষ্ট্র সচিব সমশের মবিন চৌধুরী।

এর আগে ওই বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে তাদের সঙ্গে আলোচনা-সমঝোতার জন্য ঢাকা থেকে তৎকালীন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (পরে মেজর জেনারেল) নুরুল ইসলাম (শিশু) ঢাকা থেকে লিবিয়া গিয়েছিলেন।

তবে ১২ জন সেনা কর্মকর্তা চাকরিতে যোগ দিতে রাজি হলেও ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের প্রধান দুই হোতা কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান ও কর্নেল খন্দকার আব্দুর রশীদ সরকারের সঙ্গে সমঝোতা ও চাকরি গ্রহণে অসম্মতি জানিয়েছিলেন।

তারা লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট কর্নেল গাদ্দাফির সব ধরনের সহযোগিতা পেয়েছিল। রাষ্ট্রপতি জিয়ার পর এরশাদ সরকারের আমলেও বঙ্গবন্ধুর খুনিরা প্রত্যেকেই কূটনীতিকের দায়িত্ব নিয়ে বিভিন্ন দেশে ছিলেন, পদোন্নতিও পেয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা যায়, মেজর ডালিমকে বেইজিং থেকে হংকংয়ে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে তাকে পোল্যান্ডের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স নিয়োগ দেওয়া হলে সে সময়ে সমাজতান্ত্রিক পোল্যান্ড সরকার তাকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।

পরে তাকে কেনিয়ায় হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। মেজর নূর তখন ব্রাজিলে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিল।

এর আগে সে আলজেরিয়ায় কাউন্সিলর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিল। মেজর রাশেদ চৌধুরী টোকিওতে কাউন্সিলর পদে নিযুক্ত ছিল।

মেজর একেএম মহিউদ্দিন সৌদি আরবের মিশন উপপ্রধান হিসেবে, মেজর শরিফুল হোসেন ওমানে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স দায়িত্ব পালন করেছে।

তারা সবাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মিনিস্টার হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছিল। পরে কোনো এক সময়ে লে. নাজমুল হোসেন ও ক্যাপ্টেন কিসমত হাশেম বিদেশে দূতাবাসের চাকরি ছেড়ে চলে যায়।

পরে তারা কানাডার নাগরিকত্ব নিয়ে সে দেশেই আছে বলে জানা গিয়েছিল। লে. আবদুল মাজেদ বিদেশ থেকে ঢাকায় এসে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে কাজ করেছিল।

পরে এক সময় কারাগারেও আটক ছিল। লেখক ও গবেষক হাসান মোর্শেদ বলেন, ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর খুনি সামরিক অফিসাররা সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ছিল।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহের মধ্যে জিয়াউর রহমানকে সেনাবাহিনীর প্রধান করে সামরিক গোষ্ঠী।

বঙ্গবন্ধুর খুনিরা দেশ থেকে চলে যেতে চায় যুক্তরাষ্ট্রে; কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তাদের আশ্রয় না দিলে তারা ব্যাংকক হয়ে লিবিয়া চলে যায়।

এরশাদ সরকারের সহায়তায় এই খুনিরা দেশে ফিরে এসে একাধিক রাজনৈতিক দল (প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তি (প্রগশ) ও ফ্রিডম পার্টি) গঠনেরও সুযোগ পেয়েছে। তাদের সংসদে বসারও সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল।

নব্বইয়ের পর খালেদা জিয়ার দুই সরকারও তাদের সহযোগিতা করেছিল। ওই সময় সুপ্রিমকোর্টে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হতে দেয়নি তারা।

গবেষক হাসান মোর্শেদ বলেন, ১৯৮৭ সালের আগস্টের ৩ তারিখ ফ্রিডম পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দেয় বঙ্গবন্ধুর খুনিরা, এই দলের প্রধান হয় বঙ্গবন্ধুর খুনি কর্নেল সৈয়দ ফারুক, সঙ্গে বজলুল হুদা, রশিদ এরা ছিল।

এরশাদ এই খুনিদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে এসে দল গঠনের সুযোগ দেন। তিনি আরও বলেন, এরশাদবিরোধী আন্দোলনে যখন আওয়ামী লীগ ফ্রন্টলাইন থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে তখন আওয়ামী লীগকে সামলাতে একটা পেটোয়া বাহিনী হিসেবে ফ্রিডম পার্টি করতে জায়গা ছেড়ে দেন সে সময়ের সেনাশাসক জেনারেল এরশাদ।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলেও খুনি চক্রের প্রধান রশিদকে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোটারবিহীন তথাকথিত নির্বাচনে ফ্রিডম পার্টির প্রার্থী হিসেবে কুমিল্লা-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করা হয়।

বিরোধীদলের আসনে বসার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল তাকে। সে সময় ফারুক-রশিদ ঢাকায় নানা ধরনের ব্যবসায় যুক্ত হয়েছিল।

একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংকে। অন্যদের মধ্যে ডালিম, নূর চৌধুরী, রাশেদ চৌধুরী প্রমুখ খালেদা জিয়ার শাসনামলে (১৯৯১-৯৬) কেনিয়া, হংকং ও ব্রাজিলে রাষ্ট্রদূত বা কনসাল জেনারেল পদে নিযুক্ত ছিল।

১৯৯৬ সালের ১২ জুনের সাধারণ নির্বাচনের সময়ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারী গোষ্ঠী বিশেষভাবে সক্রিয় ছিল বলে জানা যায়।

সে সময় ফারুক, রশিদ, ডালিম, শাহরিয়ার প্রমুখ ঢাকায় সেনাবাহিনীর ভেতরে ও বাইরে ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল।

তাদের চক্রান্তের সংবাদ পেয়েই সে সময়ের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তাব্যবস্থাও শক্তিশালী করা হয়েছিল। Take Back Bangladesh জিয়া স্বৈরশাসক।

সম্পর্কিত

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)