নিজস্ব প্রতিবেদক
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় তার মামা ওবায়দুর রহমানকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে তার জামিন শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করা হয়েছে।
সোমবার (০৫ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রিমান্ড শেষে ওবায়দুর রহমানকে আদালতে হাজির করা হয়। তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।
অন্যদিকে ওবায়দুরের পক্ষে আইনজীবী গোলাম সাবের চৌধুরী জামিনের আবেদন করেন।
আদালত মঙ্গলবার জামিন শুনানির দিন নির্ধারণ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তারের পর ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পরে ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ওই রাতেই সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
পরে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, মাকছুদা ইসলাম ও ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং মাকছুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
ওই রাতেই মামলাটির তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তী সময়ে মাকছুদা ইসলামের আরও এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।
রিমান্ড শেষে ২২ সেপ্টেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। অন্যদিকে দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে ২৮ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুল ইসলামকেও কারাগারে পাঠানো হয়।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামের জামিন আবেদন করেন তাদের আইনজীবী মাহাবুবুর রহমান।
এ সময় মরিয়মের বাবার সঙ্গে আসামিদের আপসের কথা জানানো হয় এবং তারা জামিন পেলে বাদীপক্ষের কোনো আপত্তি নেই বলেও আদালতকে জানানো হয়।
শুনানি শেষে আদালত মাকছুদা ইসলামকে জামিন দেন। তবে গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়।
এদিকে সোমবার গাজী নজরুল ইসলামের জামিন চেয়ে নতুন করে আবেদন করেছেন তার আইনজীবী মাহাবুবুর রহমান।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ আবেদনের শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করেছেন।