ঢাকা, বাংলাদেশ মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ আজকের পত্রিকা ই-পেপার আর্কাইভ কনভার্টার ফটোগ্যালারি
Amaderjagaran || Daily Newspaper In Bangladesh

শিরোনাম:

● ৩০ ব্যাংকের কার্ড-এটিএমসহ বিভিন্ন সেবা বন্ধ ● অ্যানথ্রপিকের এআই ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করল পেন্টাগন ● সদরঘাটে লঞ্চে জবি ছাত্রদলের চাঁদা দাবি ও সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিক হেনস্থা ● ব্যবসা-বাণিজ্যে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান....রাষ্ট্রপতির ● এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা’ মামা ওবায়দুর রিমান্ড শেষে কারাগারে ● লাখো মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা স্বেচ্ছাচারী পদক্ষেপ:ভারতের বিচারপতি ● নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লায় শিশু ধর্ষণের ঘটনায় জনতার ইটের আঘাতে ওসি আহত ● রোগীর মৃত্যু ঘিরে মতিঝিল ইসলামী হাসপাতালে হামলা-ভাঙচুর, আহত- ২০ ● ফেনীতে মহাসড়কে তল্লাশিকালে ট্রাকচাপায় এসআরবি সদস্য নিহত ● বাংলাদেশ বিমানের ১০টি এয়ারবাস কেনার চুক্তি ৭ অক্টোবর
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

সদরঘাটে লঞ্চে জবি ছাত্রদলের চাঁদা দাবি ও সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিক হেনস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর,২০২৬, ১০:৩৪ এ এম
সদরঘাটে লঞ্চে জবি ছাত্রদলের চাঁদা দাবি ও সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিক হেনস্থা

রাজধানীর সদরঘাটে লঞ্চে প্রবেশকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কয়েক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চের কর্মীদের কথা-কাটাকাটি, মারধর ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

পরে বিষয়টি মীমাংসার নামে লঞ্চ মালিক সমিতির কাছে জবি ছাত্রদলের কিছু কর্মী ৪০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শেষ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সোমবার (০৫ অক্টোবর) বিকেলে সদরঘাটের ৪র্থ গেটের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিয়ে দুই শিক্ষার্থী ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় লঞ্চের কর্মীরা তাদের পরিচয় জানতে চাইলে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।

একপর্যায়ে ওই দুই শিক্ষার্থী লঞ্চের এক কর্মীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে বিষয়টি জানাজানি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে গিয়ে লঞ্চের কর্মীদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০ ব্যাচের সৈকত,পবন, কাব্য, ইমন ও আসিফ, ইতিহাস বিভাগের ১৮ ব্যাচের সাইদ এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) ১৮ ব্যাচের তাজ ছিলেন বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তারা সবাই জবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামছুল আরেফিনের কর্মী হিসেবে পরিচিত।

এবং শের আলী জিয়াউদ্দিন বাসিত এর রাজনীতির সাথে যুক্ত। এরপরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে লঞ্চের কর্মীদের ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এতে কয়েকজন লঞ্চকর্মী ও শিক্ষার্থী আহত হন বলে জানা গেছে। এ সময় লঞ্চের কয়েকজন কর্মীর মোবাইল ফোন ভাঙার অভিযোগও ওঠে। এ সময় মোবাইল ফোন ভেঙে যাওয়া ও চিকিৎসা খরচের কথা উল্লেখ করে লঞ্চ মালিক সমিতির কাছে ৪০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

পরে আলোচনার মাধ্যমে ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চে কর্মরত এক ব্যক্তি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিয়ে প্রায়ই কিছু শিক্ষার্থী সন্ধ্যা বা রাতের দিকে লঞ্চে এসে মাদক সেবন করেন বলে তারা অভিযোগ পেয়েছেন।

এ কারণে পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে লঞ্চে প্রবেশে বাধা দেওয়া হলে আজকের ঘটনার সূত্রপাত হয়। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনার পর আমরা লঞ্চ মালিক সমিতির অফিসে বসি।

সেখানেও এক দফা কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বৈঠকে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। শেষ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয়।’

‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চের সুপারভাইজার মোঃ জিল্লু বলেন, ‘আর্থিক লেনদেনের কত টাকা নিয়েছে, সেটা আমি বলতে পারছি না। তবে তারা বিভিন্ন কারণে টাকা নিয়েছে। পুরান ঢাকা, বিশেষ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রদূত ও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

তাই আমরা চাই, কেউ যেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট না করে।’ লঞ্চটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘আজকের ঘটনার পর আমরা একসঙ্গে বসেছিলাম।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় ছাড়া যেন কেউ লঞ্চে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।’

এদিকে ঘটনার সময় মীমাংসার নামে চাঁদাবাজির কথা শুনে কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন।

এ সময় উপস্থিত বাংলাদেশ বুলেটিনের জবি প্রতিনিধি আকাশ আহমেদ রুপম এবং পাবলিক নিউজের জবি প্রতিনিধি এটিএম হাসনাত হাবিব সঙ্গে ছাত্রদলকর্মীরা বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি শুরু করে।

এক পর্যায়ে তাদের জোর করে বের করে দেয়। সাংবাদিকরা কীভাবে বিষয়টির মীমাংসা হচ্ছে, তা জানতে চাইলে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “আমি এ বিষয়ে পুরোপুরি অবগত নই।

যদি ছাত্রদলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ টাকা দাবি করে থাকে, তাহলে ছাত্রদল এর দায়ভার নেবে না। তারা ছাত্রদলের কর্মী নয়।

আর যদি ছাত্রদলের কেউ জড়িত থাকে, তাহলে ছাত্রদল সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।”

সম্পর্কিত

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)