সাইফুল আলম সরকার, ঢাকা:
গণপূর্ত অধিদপ্তরের দেড় হাজার কর্মচারীকে নিয়মিতকরণসহ ৯ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন বাংলাদেশ গণপূর্ত কর্মচারী ইউনিয়ন।
সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬ইং ) বিকেলে রাজধানীর গণপূর্ত অধিদপ্তরে বাংলাদেশ গণপূর্ত কর্মচারী ইউনিয়ন কার্যালয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ গণপূর্ত কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বদরুল আলম সবুজ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রায় ১ হাজার ৫০০ কার্যভিত্তিক কর্মচারীকে দ্রুত নিয়মিতকরণ, পেনশনের আওতায় আনা এবং স্থায়ী সেটআপ বাস্তবায়নের দাবিতে উত্থাপন করে বাংলাদেশ গণপূর্ত কর্মচারী ইউনিয়ন।
একই সঙ্গে আগামী ২ আগস্টের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে ৩ আগস্ট পূর্ত ভবন চত্বরে অবস্থান ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
বদরুল আলম সবুজ বলেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরে কার্যভিত্তিক কর্মচারীদের অস্থায়ী নিয়মিত রূপান্তরের ৬০২ জন ও ৮৯৩ জন কর্মচারীর দুইটি ফাইল বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
হাইকোর্টের রায় এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর ইতিবাচক মতামত থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে।
তিনি বলেন, এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক কর্মচারী চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন, অনেকে অবসরে গেছেন।
কিন্তু নিয়মিতকরণ না হওয়ায় তারা পেনশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে তাদের পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গণপূর্ত অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে ড্রাইভার, মালি, কার্যসহকারী, প্লাম্বার, কাঠমিস্ত্রি, রাজমিস্ত্রি, রংমিস্ত্রি, ইলেকট্রিশিয়ান, পাম্পচালক, লিফটম্যান, গার্ড, সুইপার ও ঝাড়ুদারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত কর্মচারীদের জন্য স্থায়ী সেটআপ না থাকায় নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ গণপূর্ত কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন এর সভাপতিত্বে বদরুল আলম সবুজ বলেন, গণপূর্ত অধিদপ্তর প্রায় দুই শতাব্দী পুরোনো একটি প্রতিষ্ঠান। অথচ এখনো পূর্ণাঙ্গ স্থায়ী সেটআপ বাস্তবায়িত হয়নি।
এতে কর্মচারীরা যেমন বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন, তেমনি প্রতিষ্ঠানও দক্ষ জনবল ব্যবস্থাপনায় পিছিয়ে পড়ছে। দৈনিকভিত্তিক ও ভাউচারভিত্তিক কর্মচারীদের নিয়মিত পদে অন্তর্ভুক্ত করা, পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টি, আউটসোর্সিং নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োগ ব্যবস্থা বাতিল করে সরাসরি গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
এ ছাড়া, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার প্রতিষ্ঠা, বার্ষিক পোশাক দেওয়া, কর্মচারীদের আবাসন সমস্যা সমাধান এবং গণপূর্তের আবাসিক এলাকাগুলোর সংস্কার ও পরিবেশ উন্নয়নের দাবিও তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গণপূর্ত কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, কার্যকরী সভাপতি, কাজী মো. নজরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মোজাম্মেল হক, মো. বাকি বিল্লাহ সিদ্দিকী, মো. সালাহ উদ্দিন খোকা, মো. মজিবুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. আলী মিয়া, মো. শাহাদত হোসেন (বাবু), সহকারী সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুল ইসলাম আউয়াল, মুহাম্মদ মনোয়ারুল ইসলাম (হিটলার), বিপ্লব মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাকির হোসেন, সহকারী সাংগঠনিক রাহীন সমরুর মনন, মো. তাজুল ইসলাম। আরও উপস্থিত ছিলেন মো. অহিদুজ্জামান, প্রচার সম্পাদক মো. আরমান মোল্লা, সহকারী প্রচার সম্পাদক মো. আব্দুর রহিম সরকার, মো. আরাফাত (আল আমিন), সেন্টু সিকদার, শ্রম ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুমন খান, সহকারী শ্রম ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মো. জিয়াউর রহমান, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক খন্দকার ওয়াদুদ আল-আমিন, সহকারী সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক মো. হানিফ মিয়া, আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. আমির হোসেন, যৌথ দর কষাকষি বিষয়ক সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ, দপ্তর সম্পাদক মো. ফারুক হোসেন, সহকারী দপ্তর সম্পাদক মো. সাইদুল করিম, অর্থ সম্পাদক মো. আবুল কাশেস, সহকারী অর্থ সম্পাদক মো. জিয়াউল হক (জিয়া) প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে বদরুল আলম সবুজ আরও জানান, আইন মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্মচারীদের পক্ষে মতামত দিলেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ শাখা, গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের কিছু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বিষয়টি বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ২ আগস্টের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নের কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে আগামী ৩ আগস্ট সকাল ১১টায় পূর্ত ভবন চত্বরে কর্মচারীদের পক্ষ থেকে এক ঘণ্টা অবস্থান ধর্মঘট পালন করা হবে।