সাইফুল আলম সরকার ঢাকা :
রাজধানীর খিলক্ষেত থানার মস্তুল এলাকার ৩০০ ফুট সড়কে প্রায়ই দূর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
গত কয়েক মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, যুব দলের কর্মী, বাইকার, পথচারী এবং লোকাল লোকজন ছাড়াও অনেকের দূর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও প্রশাসনের কোন টনক নড়ে নি।
বিশেষ করে ঐ এলাকার মস্তুল ডুমনি ব্যস্ততম মোড়ে ফুট ওভার ব্রিজ না থাকায় ঐ স্থানে অনেক দূর্ঘটনা ঘটে।
আজ শনিবার ১৮ জুলাই সকাল ১১ টায় ৩০০ ফুট সড়কের অতি ঝুকিপূর্ণ স্থান মস্তুল ডুমনি মোড়ে বারবার দূর্ঘটনায় প্রাণহানি রোধে মানববন্ধন করেন স্থানীয় ৪৩ ওয়ার্ড এর সাধারণ জনগন।
৪৩ ওয়ার্ড এর কাউন্সিলর পদপ্রার্থী জনাব মো: ইমরান হোসেন ব্যাপারীর নেতৃত্বে হাজার হাজার স্থানীয় সাধারণ জনগন, স্কুল কলেজ, মাদ্রাসা শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, স্থানীয় প্রশাসন এর লোকজন সহ সর্বস্তরের পেশাজীবি মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মস্তুল ডুমনির ৩০ হাজার মানুষের প্রানের দাবী একটাই, এই স্থানে ফুট ওভার ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে। অথবা আধা কিমি: দূরের ফুট ওভার ব্রিজটি পুনঃস্থাপন করতে হবে মস্তুল ডুমনি মোড়ে।
দূর্ঘটনার কবল থেকে রক্ষা পাবার জন্য স্থানীয় ৪৩ ওয়ার্ড এর সাধারণ জনগন বেশ কয়েকবার মানববন্ধন করেছেন।
বিশেষ করে ৪৩ ওয়ার্ড এর কাউন্সিলর পদপ্রার্থী জনাব মো: ইমরান হোসেন ব্যাপারীর নেতৃত্বে অনেক পদক্ষেপ নেয়া হয়।
ইমরান হোসেন ব্যাপারী বলেন, প্রায় ২৫-৩০ হাজার মানুষ মস্তুল ডুমনি ব্যস্ততম মোড়ের রাস্তার দুই পারে বসবাস করে।
প্রতিদিন ৫-৭ হাজার মানুষ এই রাস্তা দিয়ে এপার-ওপার পারাপার হয়। এখানে প্রায় প্রতিমাসে একাধিক সিরিয়াস দূর্ঘটনা ঘটে, গত পাঁচ বছরে প্রায় কয়েকশত দূর্ঘটনা ঘটেছে এবং প্রায় ৪০ জন অকাল মৃত্যু বরণ করেছে।
ফলে শতশত মানুষ দূর্ঘটনা জনিত কারণে অঙ্গহানী ঘটেছে। অথচ এই মোড়ের মাত্র ৪০০ গজ পশ্চিমে একটি ফুট ওভার ব্রিজ অপরিকল্পিত ভাবে তৈরি করা হয়েছে এবং প্রায় অকেজো এই ফুটওভার দিয়ে কোন মানুষ পারাপার হয় না।
অনেক সময় পার হলেও কোন মানুষ তো দুরের কথা কুকুরও পার হবার দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায় না।
অথচ মস্তুল-ডুমনি মোড় (বিয়ে বাড়ী রেষ্টুরেন্ট) এর উওর পাশে ডেলনা গ্রাম, তলনা গ্রাম, মস্তুল গ্রাম, তলনা রুহুল আমিন উচ্চ বিদ্যালয়,৭টি মাদ্রাসা, দক্ষিণ পাশে ডুমনি গ্রাম, নয়া পাড়া, টেক পাড়া, নুর পাড়া, খাইলাত পাড়া, শিয়ালদি পাড়া, আহাবর পাড়া, পাতিরা গ্রাম অবস্থিত।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই এলাকায় আমিরজান স্কুল & কলেজ, ডুমনি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডুমনি হাইস্কুল & কলেজ, নুরপাড়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা, প্রাণ- আরএফএলের শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন ৫-৭ হাজার মানুষ এই রাস্তা দিয়ে এপার-ওপার পারাপার করে। অনেক বাচ্চা এবং মহিলা আতংক নিয়ে রাস্তা পার হয়।
সরকারের সদিচ্ছা থাকলেই আধা মাইল দূরের এই ফুট ওভার ব্রিজটি মস্তুল-ডুমনি মোড়ে স্থাপন করা যায়।
৪৩ ওয়ার্ড এর কাউন্সিলর পদপ্রার্থী জনাব মো: ইমরান হোসেন ব্যাপারী অত্যন্ত আক্ষেপ করে বলেন প্রায় ৩০ হাজার নাগরিক এই স্থান টি নিয়ে আতংকে থাকতে হয়।
এর আগেও স্থানীয় পর্যায়ে একাধিক বার মানববন্ধন এবং সড়ক অবরোধ করেন সাধারণ জনগন।