এস এম আনোয়ার হোসেন অপু ও নূরুল আজিজ চৌধুরী
জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ শফিকুর রহমান (৭৭)আর নেই।
আজ শনিবার ২৪ অক্টোবর তিনি রাজধানীর বনানীতে নিজ বাসভবনে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ইন্তেকাল করেছেন।
(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।) তাঁর মৃত্যুর সংবাদে সাংবাদিক সমাজ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মানুষ এবং তাঁর সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, অভিজ্ঞ সাংবাদিক ও জনসম্পৃক্ত রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি দেশের সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
সাংবাদিকতা ও জনজীবনে পরিচিত এক ব্যক্তিত্ব:
মুহাম্মদ শফিকুর রহমানের মৃত্যুতে দেশের সাংবাদিকতা অঙ্গন হারাল একজন অভিজ্ঞ ও প্রবীণ ব্যক্তিত্বকে।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হিসেবে তিনি সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্বকারী এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
সাংবাদিক সমাজের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা তাঁকে সহকর্মীদের কাছে পরিচিত করে তুলেছিল।
সাংবাদিকতা কেবল সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যম নয়; বরং সমাজের অসংগতি তুলে ধরা, জনস্বার্থ রক্ষা এবং রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি এই পেশার সঙ্গে যুক্ত থেকে জনপরিসরে ভূমিকা রেখেছেন।
জাতীয় প্রেসক্লাব দেশের সাংবাদিকদের মিলনকেন্দ্র হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
এ প্রতিষ্ঠানের সাবেক সভাপতি হিসেবে মুহাম্মদ শফিকুর রহমানের নাম সাংবাদিকতার অঙ্গনে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁর পরিচয়:
মুহাম্মদ শফিকুর রহমানের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।
মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদা দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় অধ্যায়।
মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাঁদের আত্মত্যাগ, সাহস ও অবদান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মুহাম্মদ শফিকুর রহমানের প্রয়াণে তাঁর পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মহলে শোকের অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে।
সাংবাদিকতা থেকে সংসদ সদস্য:
সাংবাদিকতার পাশাপাশি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান জাতীয় রাজনীতিতেও সম্পৃক্ত ছিলেন।
তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সাংবাদিকতা ও রাজনীতির সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা তাঁকে দেশের জনপরিসরের একজন পরিচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল।
একজন সাংবাদিক হিসেবে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানার এবং তা মানুষের সামনে তুলে ধরার সুযোগ থাকে।
অন্যদিকে, জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের প্রত্যাশা ও সমস্যা নিয়ে কাজ করার দায়িত্ব পালন করতে হয়।
তাঁর জীবনে সাংবাদিকতা ও জনপ্রতিনিধিত্ব—দুটি ক্ষেত্রই গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় হিসেবে যুক্ত ছিল।
শোকের ছায়া সাংবাদিক সমাজে:
একজন প্রবীণ সাংবাদিক ও সাবেক জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতির মৃত্যুতে সাংবাদিক সমাজ একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বকে হারাল।
দীর্ঘদিনের সহকর্মী, পরিচিতজন ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে তাঁর মৃত্যু নিঃসন্দেহে বেদনাদায়ক।
জীবনের শেষ সময়ে রাজধানীর বনানীতে নিজ বাসভবনে তাঁর ইন্তেকালের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে ঘিরে স্মৃতি ও শোকের অনুভূতি প্রকাশ পাচ্ছে।
তাঁর মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
গভীর শোক ও সমবেদনা বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ শফিকুর রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি।
তাঁর দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা, সাংবাদিকতার সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং জনজীবনে ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
মহান আল্লাহ তাআলা তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত ও নূরান্বিত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।
একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের এই অপূরণীয় ক্ষতি সইবার শক্তি ও ধৈর্য দান করুন।