আ জা আন্তর্জাতিক ডেক্স
নকআউট পর্বে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষ বরাবরই এক বিভীষিকা ব্রাজিলের জন্য।
এবারও সেই অভিশাপ থেকে মুক্তি পেল না লাতিন জায়ান্টরা। ২০০২ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউটে ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে জয়ের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো সেলেসাওদের।
একই সঙ্গে ভেঙে গেল বহু প্রতীক্ষিত ‘হেক্সা’ মিশনও। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এবারও ষষ্ঠবারের মতো সেই স্বপ্ন অপূর্ণ রেখেই বিদায় নিল।
অন্যদিকে আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে ব্রাজিলকে হারিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে।
সোমবার (০৬ জুলাই) নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর লড়াইয়ে শুরু থেকেই ছিল উত্তেজনা।
চতুর্থ মিনিটেই প্যাট্রিক বার্গ বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ব্রাজিল।
তবে সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ম্যাচের ১৩ মিনিটে ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টি পায় ব্রাজিল।
কিন্তু ব্রুনো গিমারাইসের স্পটকিক দুর্দান্তভাবে ফিরিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নিল্যান্ড।
১৯৮৬ সালের পর বিশ্বকাপে টাইব্রেকার বাদে কোনো ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়ের প্রথম পেনাল্টি মিসও এটি।
পেনাল্টি মিসের পর ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরলেও একের পর এক সুযোগ নষ্ট করতে থাকে ব্রাজিল।
গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ম্যাথেউস কুনিয়ার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় নিল্যান্ডের দৃঢ়তায়।
অন্যদিকে যোগ করা সময়ে মার্টিন ওডেগার্ডের জোরালো শট ঠেকিয়ে ব্রাজিলকে বাঁচান অ্যালিসন।
ফলে গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ। বিরতির পর আক্রমণের গতি আরও বাড়ায় ব্রাজিল।
৬০ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমেই ভিনিসিয়ুসের দুর্দান্ত পাস থেকে সহজ সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেননি এন্দ্রিক।
এরপর রায়ানের দূরপাল্লার শটসহ আরও কয়েকটি আক্রমণ নিল্যান্ডের দৃঢ় হাতে থেমে যায়।
ম্যাচের ৬৮ মিনিটে শেষ চেষ্টা হিসেবে নেইমারকে মাঠে নামান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তবে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন নরওয়ের অধিনায়ক আর্লিং হলান্ড।
৭৯ মিনিটে আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের নিখুঁত ক্রসে শক্তিশালী হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।
ব্রাজিল সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালালেও উল্টো ৯০ মিনিটে আবারও শেলদেরুপের পাস থেকে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা। সেই গোলেই কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায় ব্রাজিলের বিদায়।
যোগ করা সময়ে ক্যাসেমিরোকে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। ১০০তম মিনিটে স্পটকিক থেকে গোল করে ব্যবধান কমান নেইমার।
কিন্তু শেষ মুহূর্তের সেই গোল কেবল ব্যবধানই কমিয়েছে, হেক্সার স্বপ্ন বাঁচাতে পারেনি। এই জয়ে বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস লিখেছে নরওয়ে। প্রথমবারের মতো তারা খেলবে কোয়ার্টার ফাইনালে।
আর জোড়া গোল করে চলতি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা সাতে নিয়ে গিয়ে গোলদাতাদের তালিকায় লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের পাশে জায়গা করে নিয়েছেন হলান্ড।
অন্যদিকে ব্রাজিলের জন্য এটি আরেকটি তিক্ত অধ্যায়। ২০০২ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয়ের অপেক্ষা যেমন শেষ হলো না, তেমনি আবারও অধরাই থেকে গেল বহু কাঙ্ক্ষিত ‘হেক্সা’।
ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে শুরু করা মিশন শেষ হলো ষষ্ঠবারের মতো শূন্য হাতেই।