নিজস্ব প্রতিবেদক গাইবান্ধা
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম বন্ধ করতে চাই, সন্ত্রাস বন্ধ করতে চাই, আমরা একটি ন্যায়সঙ্গত বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চাই।
আপা যে পথে হেঁটেছেন, এখন আপনারাও সেই পথে হাঁটছেন। অত্যাচারীর এই পথ পালাবার পথ, এই পথে হাঁটলে মক্কায় যেতে পারবেন না, দিল্লিতে যেতে হবে।’
চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের অবসান ঘটিয়ে ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণকে আবারও রাজপথে নামার প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে গাইবান্ধার সাঘাটার বোনারপাড়া আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
২১ জুন সাঘাটায় সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত শহীদ সাইফুল্লাহ বারী ও সালাউদ্দিনের হত্যার বিচার এবং সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে যুক্ত নয় মন্তব্য করে জামায়াত আমির বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ কোন দলের সঙ্গে থাকে না। ফ্যাসিবাদ একটা ভাইরাস।
এক ফ্যাসিবাদকে তাড়ালে হবে না, জনগণ আর ফ্যাসিবাদ চায় না। কোনো ফ্যাসিবাদকে বাংলার জমিনে প্র দেওয়া হবে না।
আপনারা তৈরি হন। যেভাবে ২৪ সালে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। হয় তো আবারও রাস্তায় নামতে হবে।
জাতির জন্য একবার নয়, শতবার নামব, ইনশাআল্লাহ।’ সরকারের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘আমরা দুর্বল নই, যারা জনগণের কাছ থেকে চাঁদা নেয়, তারা দুর্বল।
সরকার প্রশাসনকে দলীয়করণ করেছে। তারা স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে দলীয় লোক বসিয়েছে।
কারণ ওই সব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ আছে, চুষলে মধু পাওয়া যায়। সব জায়গায় হরিলুট চলছে।’
সাঘাটায় দুই শিবির নেতা হত্যার বিচার প্রসঙ্গে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘প্রশাসনকে স্পষ্ট বলেতে চাই, আসামিদের নজরদারিতে রেখেছেন কিন্তু মুল আসামি পলাশকে ধরছেন না কেন..?’ তিনি আরও বলেন, ‘তাদের দায়িত্বের জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
প্রশাসন কোনো দলের নয়, প্রশাসন গোটা জাতির সম্পদ।’ সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মো. আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন এবং বগুড়া জেলা আমির মো. আব্দুল হক বক্তব্য দেন।
এ ছাড়া গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা নজরুল ইসলাম, গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের সাবেক আমির আব্দুর রহিম সরকার, জেলা সহকারী সেক্রেটারি ফয়সাল কবীর রানা, গাইবান্ধা সদর শহর আমির ও জেলা শূরা কর্মপরিষদ সদস্য এ.কে.এম ফেরদৌস আলম এবং শ্রমিক কল্যাণের জেলা সভাপতি নূরুন্নবী প্রধান বক্তব্য রাখেন।