এস এম মিজান, নূরুল আজিজ চৌধুরী
বিএনপির অন্যতম সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি। রাকিব-নাছির কমিটির দুই বছরের মেয়াদ চলতি বছরের মার্চে শেষ হয়েছে।
তাই নতুন নেতৃত্ব গঠন নিয়ে সংগঠনের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা জোরালো হয়েছে।
শনিবার (০১ আগষ্ট) আগামী সোমবার ০৩ আগষ্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছাত্রদলের আয়োজনে জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ছাত্র সমাবেশের কর্মসূচির পর যেকোনো সময় সংগঠনটির নতুন নেতৃত্বের ঘোষণা আসতে পারে বিএনপির হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে।
ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির অনেক নেতাও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের এই ছাত্র সমাবেশকে নিজেদের কমিটির বিদায়ী কর্মসূচি হিসেবে দেখছেন।
ছাত্র সমাবেশটিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, আগস্টের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহের দিকেই ঘোষণা আসতে পারে ছাত্রদলের নতুন কমিটির।
কমিটি ভাঙার আলোচনা সামনে আসার পাশাপাশি নতুন কমিটি ঘিরে তোড়জোড় শুরু হওয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন নেতারা।
বিগত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত থাকা অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী যারা ছাত্রদলে জায়গা পাননি, তারা চান এবার দল তাদের মূল্যায়ন করুক। পাশাপাশি রাজপথের এবং অবহেলার শিকার নেতাকর্মীরাও দলে তাদের মূল্যায়ন চান।
এদিকে, ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন বেশ কয়েকজন। তাদের মধ্যে রয়েছেন—খোরশেদ আলম সোহেল, মঞ্জুরুল আলম রিয়াদ, মোস্তাফিজুর রহমান (ভিপি), কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত, আমান উল্ল্যাহ আমান, এইচ এম আবু জাফর, আরিফুল ইসলাম আরিফ (সহসভাপতি), মমিনুল ইসলাম জিসান,
এজাজুল কবির রুয়েল, ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল ও শরীফ প্রধান শুভ। সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন—গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক, তরিকুল ইসলাম তারিক, নাহিদুজ্জামান শিপন, নাছির উদ্দীন শাওন, মো. রাজু আহামেদ, গাজী মো. সাদ্দাম হোসেন, মোহাম্মদ আব্দুর রহিম রনি, তারেক হাসান মামুন,
মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, মাহমুদ ইসলাম কাজল ও দ্বীন ইসলাম খান। ছাত্রদলের পদপ্রত্যাশী নেতারা বলছেন, নতুন কমিটিতে আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত এবং ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে।
তাদের মতে, নেতৃত্ব নির্বাচনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং তাঁর সিদ্ধান্তই সবাই মেনে নেবেন।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর যেকোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে।
সম্পূর্ণভাবে হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় ও মেধাভিত্তিক রাজনীতির মাধ্যমে সংগঠনকে একটি আধুনিক এবং গতিশীল প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করার ইচ্ছা ছাএ নেতাদের।
অনেকে বলেন, নতুন নেতৃত্ব এবং নব উদ্যামে এগিয়ে যাওয়ার জন্য দৃঢ় প্রত্যয়ে সারা বাংলাদেশের ছাত্রদল অপেক্ষা করছে।
আমরা আশা করছি, আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অচিরেই আমাদের নতুন কমিটি উপহার দেবেন।
সব মিলিয়ে, ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।সূত্র বলছে, আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত, সাংগঠনিকভাবে দক্ষ এবং তৃণমূলে গ্রহণযোগ্য নেতাদের সমন্বয়ে নতুন নেতৃত্ব গঠন করা হলে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ছাত্রদল নতুন উদ্যমে কাজ করতে পারবে।
তবে, ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে নানা জল্পনা থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চূড়ান্ত অনুমোদনের মাধ্যমে।
ফলে শেষ মুহূর্তে সমীকরণ বদলে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।