Amaderjagaran || Daily Newspaper In Bangladesh

শিরোনাম:

● রোগীর মৃত্যু ঘিরে মতিঝিল ইসলামী হাসপাতালে হামলা-ভাঙচুর, আহত- ২০ ● ফেনীতে মহাসড়কে তল্লাশিকালে ট্রাকচাপায় এসআরবি সদস্য নিহত ● বাংলাদেশ বিমানের ১০টি এয়ারবাস কেনার চুক্তি ৭ অক্টোবর ● মালয়েশিয়ায় ৩৭ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার ● জরিমানা ছাড়াই লাইসেন্স হালনাগাদের সুযোগ, সময় ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বি আর টি এ ● সিদ্ধিরগঞ্জে ব্যাংক থেকে ছয় লাখ টাকা তুলে বাড়ি ফেরার পথেই ছিনতাই ● সৌদিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথিরা ● মানুষ নিরাপদে ঘুমাতে না পারলে সরকারের দরকার নেই’ ● বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয় উভয় পক্ষ ● ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে সরকার... প্রতিমন্ত্রী
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

পড়তে না পাড়ায় ‎মাদ্রাসা ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ, অবরোদ্ধ শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক জয়পুরহাট

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল,২০২৬, ০৭:৪০ পিএম
পড়তে না পাড়ায় ‎মাদ্রাসা ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ, অবরোদ্ধ শিক্ষক

‎জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ১০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে বেত্রাঘাতের অভিযোগ উঠেছে মাদ্রসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

এতে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে ডোরাকাটা দাগ পড়ে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পরে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। বুধবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার রামশালা মোড় এলাকার একটি দোকানে এ ঘটনা ঘটে। ‎

বেত্রাঘাতের শিকার শিক্ষার্থীর নাম নাহিদ হাসান (১০)। সে রামশালা দারুল উলুম হাফেজিয়া মাদ্রাসার হেফজখানা বিভাগের আবাসিক ছাত্র এবং উপজেলার জাফরপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ‎ 

থানা-পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাহিদ প্রায় পাঁচ বছর ধরে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে। বুধবার সকালে পড়া না পারায় মাদ্রাসার শিক্ষক আবু হুরাইরা তাকে বেত দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ।

তবে ঘটনাটি সে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে জানায়নি। বিকেলে নাহিদের বাবা মিজানুর রহমান ছেলের জন্য নাস্তা নিয়ে মাদ্রাসায় গেলে তাঁর শরীরে ডোরাকাটা দাগ দেখতে পান।

এ সময় নাহিদ জানায়, সকালে পড়া না পারায় শিক্ষক আবু হুরাইরা তাকে বেত্রাঘাত করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মাদ্রাসার অন্য শিক্ষকেরা অভিযুক্ত শিক্ষককে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন।

পরে নাহিদকে রামশালা মোড়ে স্থানীয় এক গ্রাম্য চিকিৎসকের চেম্বারে নেওয়া হয়। সেখানে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক গেলে ক্ষুব্ধ লোকজন তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং একপর্যায়ে মারধর করেন।

‎খবর পেয়ে রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ‎নাহিদ হাসান বলে, আমি পড়া দিতে পারিনি। এজন্য হুজুর আমাকে বেত দিয়ে অনেক মারধর করেছেন।

হাত জোড় করেও রক্ষা পাইনি। ‎নাহিদের বাবা মিজানুর রহমান বলেন, শাসন করুক, এতে আপত্তি নেই। কিন্তু যেভাবে আমার ছেলেকে মারা হয়েছে, তা অমানবিক। চোরকেও এভাবে মারা হয় না।

সকালে মারার দাগ সন্ধ্যাতেও স্পষ্ট রয়েছে। ‎মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক বলেন, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষক পালিয়ে গেছেন। তবে তাঁকে পালাতে সহায়তার অভিযোগ সঠিক নয়।

উত্তেজিত লোকজন আমাকে লাঞ্ছিত করেছেন। ‎স্থানীয় বাসিন্দা শাহজান আলী বলেন, ওই মাদ্রাসায় প্রায়ই শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ শোনা যায়।

আগেও বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ‎মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান বলেন, ছাত্রের শরীরের অবস্থা দেখে আমি হতবাক হয়েছি।

অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ‎আক্কেলপুর থানার ওসি শাহীন রেজা বলেন, ছাত্রকে বেত্রাঘাতের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ লোকজন প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন।

খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ‎

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)