ঢাকা, বাংলাদেশ সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ আজকের পত্রিকা ই-পেপার আর্কাইভ কনভার্টার ফটোগ্যালারি
Amaderjagaran || Daily Newspaper In Bangladesh

শিরোনাম:

● চট্টগ্রাম বাঁশখালীতে এসআরবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ● বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থায় নিয়োগে মিথ্যা তথ্য: পুতুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছে দুদক ● ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশের খবর ভিত্তিহীন...প্রেস কর্মকর্তা ● প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে সরকার....প্রধানমন্ত্রী ● জাতীয় প্রেসক্লাবের নামে মেট্রোরেল স্টেশন করার দাবির সাথে একমত...নৌপরিবহনমন্ত্রী ● ডেমরায় এলাকাবাসীর অর্ধ কোটি টাকা লাপাত্তা প্রতারক মা-মেয়ে ● ঢামেকের জরুরি বিভাগ থেকে ভুয়া চিকিৎসক গ্রেফতার ● দুই বছরেই জেলায় সেরা, বিভাগে তৃতীয় লালমোহনের সোনালী ব্যাংক ● প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন বাস্তবায়নে ঢাকা মহানগরীর ২০টি জোনে গঠিত হচ্ছে বিশেষ কমিটি ● নারায়ণগঞ্জ জেলা আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অবদান রাখায় ডিসি ও এসপিকে সম্মাননা
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)
অস্ত্র বহনের প্রেক্ষাপট

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর ঢাকা-৬ আসনের এমপি ও মন্ত্রী ইশরাক হোসেনের বক্তব্য

এস এম মিজান ও নূরুল আজিজ চৌধুরী,

প্রকাশ : রবিবার, ১৮ অক্টোবর,২০২৬, ০৩:৩১ পিএম
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর ঢাকা-৬ আসনের এমপি ও মন্ত্রী ইশরাক হোসেনের বক্তব্য

ঢাকার গেন্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং আত্মরক্ষার্থে ব্যক্তিগত লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র বহনের ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত খণ্ডিত ও বিভ্রান্তিকর সংবাদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, এমপি।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে তিনি জানান, একটি স্পর্শকাতর ঘটনার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্যকে কেন্দ্র করে প্রচারিত ভিডিও, ফটোকার্ড ও খণ্ডিত শিরোনাম সামগ্রিক প্রেক্ষাপটকে মূল্যায়ন করে না।

যার ফলে প্রতিমন্ত্রীর ভূমিকা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জনমনে পরিকল্পিত বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় অধিবাসীদের পক্ষ থেকে যসুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়ে আসছেন।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে এই জনপদটি মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়।

গত জুন মাসে মাদক-সংক্রান্ত এক সহিংসতায় ৩ জন নিরীহ নাগরিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এলাকাটি সরজমিনে পরিদর্শন করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে একাধিক সমন্বয় সভা করেন।

জনবলসংকট দূরীকরণ এবং মাদকের আস্তানা সংলগ্ন স্থানে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট থানাকে আধাসরকারি পত্র (DO Letter) প্রদান করলেও তা এখনো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি স্পষ্ট করেন, সর্বশেষ পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—সাধারণ নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশগ্রহণে একটি সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই তিনি গতকাল উক্ত এলাকায় যান ঘটনাস্থলে গমনাগমনের পূর্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্রে মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর নিরাপত্তাঝুঁকি এবং মাদক কারবারিদের পক্ষ থেকে ছাদ থেকে আকস্মিক গুলিবর্ষণের আশঙ্কার বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “কর্মসূচি চলাকালে একটি অস্থায়ী আস্তানার নিকট পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন আইনলঙ্ঘনকারী ব্যক্তি অতর্কিতে হইচই করে আমাদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে ধেয়ে আসে।

এমতাবস্থায় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা এবং জানমালের নিরাপত্তায় আমি এবং আমার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরি।

সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নস্যাৎ হওয়ার পরপরই অস্ত্রটি যথাস্থানে রাখা হয়।

উক্ত আগ্নেয়াস্ত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং এর প্রদর্শনী কেবলই আত্মরক্ষার স্বার্থে আইনি কাঠামোর মধ্যে স ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর অনতিবিলম্বে গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়।

পরবর্তীতে পুলিশের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে ও সহায়তায় সন্দেহভাজন আস্তানাগুলোতে যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়।

এ সময় ৪-৫টি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়। আস্তানাগুলো থেকে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদকদ্রব্য, বিদেশি মদ, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, বেশ কিছু দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

উক্ত অপরাধের সাথে হাতেনাতে জড়িত ৬ জন মাদক কারবারিকে আটক করে জব্দকৃত আলামতসহ গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়েছে প্রতিমন্ত্রী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “দূর্ভাগ্যজনকভাবে প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক কালবেলাসহ মুষ্টিমেয় কয়েকটি গণমাধ্যম অতিউৎসাহী হয়ে খণ্ডিত তথ্য ও ফটোকার্ডের মাধ্যমে অপতথ্য ও বিকৃত সংবাদ পরিবেশন করেছে।

বিকৃত, মিথ্যা এবং সম্পূর্ণ বানোয়াট এসব সংবাদ মূলত অভিযানের সাফল্য, পুলিশের ভূমিকা, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং ৬ জন অপরাধী আটকের ইতিবাচক দিকটি সুপরিকল্পিতভাবে সম্পূর্ণ এড়িয়ে গেছে।

এর মাধ্যমে তারা সরকার ও জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

তারা কেবল ‘অস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রীর অভিযান’—এই খণ্ডিত দৃশ্যটিকে চটকদার শিরোনামে প্রচার করেছে, যা স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিপন্থী।

”মাননীয় প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যমসমূহকে যেকোনো সংবাদের সত্যতা যাচাইপূর্বক পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপটসহ তা প্রকাশের আহ্বান জানান।

মাদক নির্মূলে দৃঢ় প্রত্যয়: মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের 'জিরো টলারেন্স' নীতি পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, “মাদকের আস্তানা সম্পূর্ণরূপে উপড়ে ফেলা এবং ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত করা জনগণের নিকট আমার অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার।

একটি ঘটনাকে খণ্ডিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচারের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সামাজিক আন্দোলনকে স্তব্ধ করা যাবে না।”

জনস্বার্থে এই অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সম্পর্কিত

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)