Amaderjagaran || Daily Newspaper In Bangladesh

শিরোনাম:

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের শেষ বিদায়। অনুমোদনহীন স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ....প্রধানমন্ত্রীর সোনারগাঁ থানার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযানে ১৯ জন গ্রেফতার নেপালে বন্যার খবর সংগ্রহে কড়াকড়ি, নতুন নির্দেশনায় দেশি-বিদেশি সাংবাদিকরা কপ-১৭ সম্মেলনের সাইডলাইনে পরিবেশ মন্ত্রীর চারটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির দায়িত্ব নিলেন....আইরিন খান ইরানে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান বাসিজ বাহিনীর ইরানে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান বাসিজ বাহিনীর ইরানে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান বাসিজ বাহিনীর হামের উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু,মোট প্রাণহানি ৯৬৩ জন
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)
বাংলাদেশ পরিবেশ ও বন জলবায়ু পরিবর্তন

কপ-১৭ সম্মেলনের সাইডলাইনে পরিবেশ মন্ত্রীর চারটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : শনিবার, ২৯ আগস্ট,২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
আপডেট : শনিবার, ২৯ আগস্ট,২০২৬, ০৭:২৫ পিএম
কপ-১৭ সম্মেলনের সাইডলাইনে পরিবেশ মন্ত্রীর চারটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের মরুকরণ মোকাবিলা কনভেনশনের ১৭তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (UNCCD COP17)-এর সাইডলাইনে চারটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, এমপি।

বৈঠকগুলোতে ভূমি অবক্ষয় ও খরা মোকাবিলা, জলবায়ু সহনশীলতা, বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বাণিজ্য, শ্রম অভিবাসন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।

পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও ভূমি অবক্ষয়ের মতো আন্তঃসীমান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা অংশীদারদের সঙ্গে বিনিময়ের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সফল উদ্যোগ থেকেও শেখার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

ভারতের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী এইচ.ই. মি. ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে ২৪ আগস্টের বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, পানি সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, খরা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়।

এ ছাড়া সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র সুরক্ষা, রিমোট সেন্সিং ও জিআইএস প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ও আলোচনায় আসে।

নবায়নযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনাও গুরুত্ব পায়। সৌরবিদ্যুৎ, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ, ভূমি-সাশ্রয়ী নবায়নযোগ্য প্রযুক্তি এবং পরিবেশসম্মত জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয়। মঙ্গোলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এইচ.ই. বাতসেতসেগ বাতমুনখের সঙ্গে মঙ্গলবারের বৈঠকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি উভয় দেশে দূতাবাস খোলার মাধ্যমে কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্ব জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়েও মতবিনিময় করেন তারা। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধ ও তৈরি পোশাক রপ্তানির সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় আসে।

একই সঙ্গে মঙ্গোলিয়ার শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় নির্মাণ, সেবা ও কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মীদের নিরাপদ ও নিয়মিত কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

এ ক্ষেত্রে সরকার-টু-সরকার ব্যবস্থা, দক্ষতার স্বীকৃতি এবং অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (IOM) উপ-মহাপরিচালক (অপারেশনস) উগোচি ড্যানিয়েলসের সঙ্গে ২৬ আগস্টের বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিবাসনের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়। জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করার বিষয়েও মতবিনিময় করেন তারা।

জলবায়ুজনিত মানব চলাচলের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।

এদিকে মঙ্গোলিয়ার পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী এইচ.ই. মি. সানদাগ-ওচির সেন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ লক্ষ্যে পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতা নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক প্রণয়নের বিষয়েও মতবিনিময় করেন তারা।

ভূমি পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য, জলবায়ু অভিযোজন, টেকসই প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও সক্ষমতা উন্নয়নকে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

বাংলাদেশ মঙ্গোলিয়ার চারণভূমি ব্যবস্থাপনা, মরুকরণ নিয়ন্ত্রণ ও খরা সহনশীলতার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে।

একই সঙ্গে জলাভূমি, উপকূলীয় অঞ্চল ও কমিউনিটিভিত্তিক বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা মঙ্গোলিয়ার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার আগ্রহ জানানো হয়।

এ ছাড়া জিআইএস, রিমোট সেন্সিং, খরা পূর্বসতর্কীকরণ ব্যবস্থা, বিশেষজ্ঞ বিনিময়, প্রশিক্ষণ, যৌথ গবেষণা ও পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।

পরিবেশমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, কপ-১৭-এর সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকের ধারাবাহিকতায় সংশ্লিষ্ট দেশ ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।

এর মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব নতুন মাত্রা পাবে।

সম্পর্কিত

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)