Amaderjagaran || Daily Newspaper In Bangladesh

শিরোনাম:

হজ নিবন্ধনে সাড়া নেই, প্রচারণার অভাব জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের শেষ বিদায়। অনুমোদনহীন স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ....প্রধানমন্ত্রীর সোনারগাঁ থানার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযানে ১৯ জন গ্রেফতার নেপালে বন্যার খবর সংগ্রহে কড়াকড়ি, নতুন নির্দেশনায় দেশি-বিদেশি সাংবাদিকরা কপ-১৭ সম্মেলনের সাইডলাইনে পরিবেশ মন্ত্রীর চারটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির দায়িত্ব নিলেন....আইরিন খান ইরানে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান বাসিজ বাহিনীর ইরানে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান বাসিজ বাহিনীর ইরানে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান বাসিজ বাহিনীর
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)
কবির নামাজের জানাজায় সরোওহারদী উদ্যানে

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের শেষ বিদায়।

আ জা ডেক্স

প্রকাশ : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট,২০২৬, ১১:০৪ এ এম
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের শেষ বিদায়।

২৮ আগস্ট ১৯৭৬ ১১ভাদ্র ১৩৮৩, রবিবার। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের শেষ বিদায়। ____________________________ আগের দিন থেকে কবির জ্বর ছিল। এদিন সকালে জ্বর আরো বাড়ে। একশ’ পাঁচ ডিগ্রী ছাড়িয়ে যায়।

কবির ব্যক্তিগত চিকিৎসক প্রফেসর ডাক্তার নাজিমুদ্দিন চৌধুরী আসেন সকাল সাড়ে ৮টায়। ডাঃ নূরুল ইসলাম এলেন সকাল পৌনে ন’টায়।

সিস্টার বেগম সামসুন্নাহার মাহমুদ কবির মুখে চামচ দিয়ে পানি তুলে দেন। দীর্ঘ চৌত্রিশ বছরের বেশি সময় ধরে দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভোগার পর, তৎকালীন পিজি হাসপাতালে ১১৭ নম্বর কেবিনে, কবি যখন পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তখন সময় সকাল ১০টা বেজে ১০মিনিট। কবির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পনেরো মিনিটের মধ্যেই হাসপাতালে ছুটে এলেন প্রেসিডেন্ট আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, রিয়ার অ্যাডমিরাল মোশারফ হোসেন খানসহপ্রশাসনের সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা, কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের অসংখ্য মানুষ। কবির পুত্রবধূ উমা কাজী ছিলেন কবির শয্যার পাশে।

১১৭ নম্বর কেবিনের সম্মুখভাগ থেকে শুরু করে হাসপাতাল সংলগ্ন বিশাল এলাকা জুড়ে শোকাতুর জনগণের হাতে ফুল, লোবান, আগরবাতি আর দু’চোখ ভরা পানি।

দর্শনেচ্ছু জনতাকে লাইন করাতে পুলিশ হিমসিম খাচ্ছিলেন। বেলা পৌনে এগারোটায় কবির মরদেহ আউটডোরের দোতলা ঘরের উঁচু মঞ্চে এনে রাখা হলো।

বেলা দু’টো নাগাদ কবির দেহবাহী ট্রাক ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পথে রওয়ানা হলো।

শোকাতুর জনতার বিশাল মিছিল ঠেলে এই সামান্য পথটুকু আসতে সময় লেগেছে পুরো আধ ঘণ্টা। জানাজা ও দাফনের আগে প্রেসিডেন্টের অন্যতম উপদেষ্টা কর্নেল এম এস হকের তত্ত্বাবধানে পি জি হাসপাতালের স্টুয়ার্ট সৈয়দ নাসির আলী কবিকে শেষ গোসল দেন।

এর পর কবির কফিন নিয়ে বিশাল শোক মিছিল যখন সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের দিকে রওয়ানা হয়েছে তখন বিকেল সাড়ে ৪টা।

সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে বিকালে পাঁচটায় বিশাল জনসমুদ্র এই মহান কবির নামাজে জানাজা পড়েছে।

এই জানাজায় প্রেসিডেন্ট ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক, তিন বাহিনীপ্রধান ছাড়াও শরিক হন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানী রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ খুরশীদসহ অন্যান্য মুসলিম দেশের রাষ্ট্রদূতগন।

জানাজা শেষে দাফনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ প্রাঙ্গণে যাঁরা কবির দেহ গাড়ি করে নিয়ে যান তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রেসিডেন্ট ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, সেনাবাহিনী প্রধান ও উপ প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, নৌ বাহিনী প্রধান ও উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক রিয়ার অ্যাডমিরাল মোশারফ হোসেন খান, বিমান বাহিনীর সহকারী স্টাফ প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এ জি মাহমুদ, বাংলাদেশ রাইফেলস প্রধান মেজর জেনারল দস্তাগীর ও রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে কবির মরদেহ পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করার জন্য যখন আনা হয় তখন বিকাল সাড়ে পাঁচটার কিছু বেশী।

অপেক্ষমান ইষ্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের এক প্লাটুন সৈনিকের কাছে তখন ক্যমান্ড আসে :

লাস্ট প্রেজেন্ট আর্মস্। একের পর এক বিশটি রাইফেল গর্জে ওঠে।

গুলি ফায়ার শেষ হলে শ্রদ্ধার নিদর্শনস্বরূপ অবনমিত হয় রেজিমেন্টাল কালারস :

রেজিমেন্টের নিজস্ব পতাকা। জুনিয়র টাইগার নামে পরিচিত সেকেন্ড রেজিমেন্টের বিউগলে বেজে ওঠে লাস্ট পোস্ট তথা শেষ বিদায়ের করুণ সুর।

একুশবার তোপধ্বনির সঙ্গে সঙ্গে কাফনের ওপর থেকে ফুলের স্তূপ সরিয়ে কবির দেহ যখন নামানো হয় তখনও তিন মিনিট ধরে কেঁপে কেঁপে বাজছিল বিউগলের লাস্ট পোস্ট।

সমাধির পাশে দাঁড়িয়ে সামরিক সরকারের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান কবির বিখ্যাত গান ‘চল চল চল’- কে ইষ্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের রণসঙ্গীত হিসাবে ঘোষণা করলেন।

মসজিদের পাশে কবি সৈনিকের কবরে তখন সবাই ছড়িয়ে দেন এক মুঠো করে মাটি।

বিভিন্ন প্রতিরক্ষা বাহিনীর তরফে সমাধিতে মাল্যদান সমাপ্ত হলে তিন বাহিনী-প্রধানগন সম্মিলিতভাবে সামরিক কায়দায় কবিকে অন্তিম অভিবাদন জানান।

কবি লিখায় প্রকাশিত ইচ্ছানুযায়ীই কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদ প্রাঙ্গনে সমাহিত করা হয়: __________________________________ মসজিদের পাশে আমায় কবর দিও ভাই। যেন গোরে থেকেও মোয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাই। আমার গোরের পাশ দিয়ে ভাই নামাজীরা যাবে পবিত্র সেই পায়ের ধ্বনি এ বান্দা শুনতে পাবে। গোর আজাব থেকে এ গুনাহগার পাবে রেহাই। লেখক : শিহাব আহমেদ শাহিন। 

সম্পর্কিত

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)