আ জা আন্তর্জাতিক ডেক্স
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার প্রতিশোধের বার্তা দেওয়ার পর ট্রাম্প-নেতানিয়াহুসহ ১৩ জন বিশ্বনেতার ছবি প্রকাশ করেছে তেহরান ভিত্তিক সংবাদপত্র হামশাহরি।
বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আজ (১৩ জুলাই) সোমবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, ইনফোগ্রাফিকটি শনিবার রাতে হামশাহরির অনলাইন সংস্করণে প্রকাশ করা হয়।
তবে এটি রোববারের মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়নি এবং তালিকাটি ইরান সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেয়েছে এমন কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি।
Holidays& Seasonal Events অনলাইনে প্রকাশিত ওই গ্রাফিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুসহ ১৩ জন বিদেশি নেতাকে কমলা রঙের কয়েদির পোশাকে এবং তাদের কপালে বন্দুকের নিশানা তাক করা অবস্থায় দেখানো হয়েছে।
ছবির নিচে বড় অক্ষরে লেখা ছিল, ‘প্রতিশোধ নিশ্চিত’। প্রকাশিত তালিকায় ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ ম্যার্ৎসের ছবি রয়েছে।
এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, সেন্টকম প্রধান ব্র্যাড কুপার, ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদন সার এবং দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) প্রধান ইয়াল জামিরকেও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এই ইনফোগ্রাফিক প্রকাশের আগে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বার্তায় বাবার হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, প্রতিশোধ আমাদের জাতির ইচ্ছা এবং এটি অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে।
এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা শান্তিপূর্ণ মৃত্যু পাবে না। তবে তিনি কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তালিকায় চার ইউরোপীয় নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে ইরান পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিও কঠোর বার্তা দিয়েছে।
তেহরানের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সংঘাতে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আকাশসীমা ও ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে পরোক্ষভাবে সামরিক অভিযানে সহযোগিতা করেছে।
এদিকে হামশাহরির প্রকাশিত গ্রাফিক এবং মোজতবা খামেনির প্রতিশোধের অঙ্গীকার মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তবে কথিত এই ‘টার্গেট তালিকা’ ইরানের রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। সূত্র : এনডিটিভি ও চ্যানেল আই অনলাইন।