নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানী ঢাকার সায়েদাবাদ আন্তজেলা বাস টার্মিনাল নারায়ণগঞ্জ কাঁচপুরে স্থানান্তরের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ নৌবাহিনীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান চিটাগাং ড্রাই ডক লিমিটেডকে দেওয়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে এ কাজ বাস্তবায়ন করা হবে, ফলে এ জন্য কোনো দরপত্র আহ্বান করা হবে না।
বুধবার (০৮ জুলাই) সচিবালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাজধানীর যানজট কমানো এবং আন্তজেলা বাস চলাচলকে আরও সুশৃঙ্খল করতে সায়েদাবাদসহ ঢাকার চারটি প্রধান বাস টার্মিনাল পর্যায়ক্রমে শহরের বাইরে স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
গত ১৫ জুন অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে দ্রুত কার্যক্রম বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনাল কাঁচপুর সেতু-সংলগ্ন এলাকায়, ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে, গাবতলী বাস টার্মিনাল সাভারের হেমায়েতপুরে এবং মহাখালী বাস টার্মিনাল প্রাথমিকভাবে পূর্বাচলে ও পরবর্তীতে টঙ্গীর কাছাকাছি স্থায়ীভাবে স্থানান্তর করা হবে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কাঁচপুরে নতুন টার্মিনাল নির্মাণে প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।
এ অর্থে শেড, টিকিট কাউন্টার, টয়লেট, অফিস কক্ষসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় ৪ হাজার ১২ বর্গমিটার প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ ও টাইলস বসানো, ১৫ হাজার ৫৭৩ কেজি প্রোফাইল শিট দিয়ে শেড নির্মাণ, ১২০টি টিকিট কাউন্টার, ৩২টি টয়লেট, অফিসকক্ষ, পার্টিশন এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে গত ২৪ জুন প্রস্তাবিত টার্মিনাল এলাকা পরিদর্শন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ।
সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, ছয় মাসের মধ্যে কাঁচপুর টার্মিনালের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ শেষ করে যাত্রীসেবা চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
এদিকে বাকি তিনটি বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে। প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ জানিয়েছেন, গাবতলী টার্মিনালের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের জমি পাওয়ার চেষ্টা চলছে, বিকল্প হিসেবে হেমায়েতপুর বিবেচনায় রয়েছে।
মহাখালী টার্মিনালের জন্য আশুলিয়ায় সম্ভাব্য স্থান দেখা হয়েছে, আর গুলিস্তান টার্মিনালের জন্য কেরানীগঞ্জে স্থান নির্ধারণের কাজ চলছে।
জেলা প্রশাসন, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
একই বৈঠকে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) এলাকার ৯টি ৩৩/১১ কেভি এআইএস উপকেন্দ্র আধুনিকায়নে ১৪১ কোটি ৩৩ লাখ টাকার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
যৌথভাবে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে অ্যাডেক্স করপোরেশন লিমিটেড ও অ্যাডেক্স ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ‘পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার একটি সেতু নির্মাণ প্যাকেজের ভ্যারিয়েশন প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে।
এর ফলে প্রকল্পটির ব্যয় ১১০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১১৬ কোটি ৯ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে।