নিজস্ব প্রতিবেদক
বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভে বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর) আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঢাকার আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল।
সকালে হাজিরা দেওয়ার পর কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা বেরিয়ে এসে আশপাশের কারখানার শ্রমিকদেরও কাজে যোগ না দিতে বাধ্য করেন।
পরিস্থিতির কারণে ৭০টি কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পরে শ্রমিকেরা আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে অবস্থান নিলে পুলিশ কয়েকটি পয়েন্ট থেকে তাদের সরিয়ে দেয়। সকাল ৮টার দিকে শ্রমিকেরা নিজ নিজ কারখানায় প্রবেশ করে কার্ড পাঞ্চের মাধ্যমে হাজিরা নিশ্চিত করেন।
এরপর কারখানা থেকে বেরিয়ে অন্য কারখানার প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হন এবং সেখানকার শ্রমিকদেরও বেরিয়ে আসতে বলেন।
একপর্যায়ে আশপাশের কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করা হলে শ্রমিকেরা সড়কে ন বিক্ষোভকারীরা আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে অবস্থান নেওয়ায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
পরে পুলিশ কয়েকটি পয়েন্টে ধাওয়া দিয়ে তাদের সরিয়ে দিলে শ্রমিকেরা বিভিন্ন শাখা সড়কে অবস্থান নেন।
শ্রমিকদের দাবি, মজুরি বোর্ড আগামী ডিসেম্বরে বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও কত টাকা বাড়ানো হবে, তা সুনির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি।
এ অনিশ্চয়তার কারণেই তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে বুধবার সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ এবং পুলিশভ্যান ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
তবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সাভার শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত রয়েছে।
এদিকে, নাশকতা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশের পাশাপাশি পাঁচ প্লাটুন বিজিবি এপিসিসহ মোতায়েন রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশের সাঁজোয়া যানও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, শিল্প পুলিশের আওতাধীন আশুলিয়া এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি ভালো রয়েছে।
তাদের আওতাধীন এক হাজার ৮৬৩টি কারখানার মধ্যে বৃহস্পতিবার ৭০টি সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
বাকি কারখানাগুলোতে কার্যক্রম চলছে। তিনি বলেন, জামগড়া এলাকায় কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণার পর কিছু ব্যক্তি ঢিল ও পাটকেল নিক্ষেপ করেন।
তাদের কয়েকজনকে আটক করার পর তারা পুলিশের ওপর হামলা চালান এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে উল্লেখ করে পুলিশ সুপার বলেন, প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক জিরাবো থেকে এনভয় কারখানা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ মিছিল করেছেন।
গাজীপুরে শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।
আজকের ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো পরিসংখ্যান নেই জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে কেউ আটক নেই। বিজিবির পাঁচ প্লাটুন সদস্য এপিসিসহ এলাকায় মোতায়েন রয়েছেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় থানা-পুলিশ ও শিল্প পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়ে মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, শ্রমিকেরা কাজ করতে চান।
কিন্তু বাইরে থেকে কিছু দুষ্কৃতকারী ও নাশকতাকারী এসে তাদের উসকানি দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা প্রচারণার মাধ্যমে শ্রমিকদের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, সরকার ইতিমধ্যে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং জানুয়ারি মাসের শুরু থেকে নতুন মজুরি কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
মালিকপক্ষও নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। তাই শ্রমিকদের কাজে ফিরে গিয়ে শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিদাতাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
তাঁর দাবি, ইতিমধ্যে অনেককে আটক করা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। পুলিশ সুপার আরও বলেন, বহিরাগত কিছু ব্যক্তি শ্রমিকদের সামনে রেখে পেছন থেকে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
এসব ব্যক্তির পেছনে কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়া রয়েছে কি না, তা তাঁদের জানা নেই। তবে তাঁরা শ্রমিক নন বলে দাবি করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ব্যক্তি শ্রমিকদের অবস্থান, গাড়ি ভাঙচুর এবং পরিস্থিতির নানা তথ্য প্রচার করছেন বলেও জানান তিনি।