ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬ আজকের পত্রিকা ই-পেপার আর্কাইভ কনভার্টার ফটোগ্যালারি
Amaderjagaran || Daily Newspaper In Bangladesh

শিরোনাম:

● সামিটের এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দেশের গ্যাস সরবরাহ কমেছে ৪৩ কোটি ঘনফুট ● নির্বাচনে জয়ের পর ইরান যুদ্ধ ও ট্রাম্পের শুল্কনীতি বদলাতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা...? ● ইরান যুদ্ধই আমাদের পরাজয়ের কারণ....জেডি ভ্যান্স ● আল জাজিরার নিবন্ধ চরম সাংবিধানিক সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে....যুক্তরাষ্ট্র ● কৃষিকে আধুনিক লাভজনক করতে প্রযুক্তির বিকল্প নেই....প্রধানমন্ত্রী ● আমেরিকার নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ভরাডুবির পর সোশ্যাল মিডিয়ায় হোয়াইট হাউস ● সিদ্ধিরগঞ্জে যুবদল নেতা,৫ জনের বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকার মানহানি মামলা ● বুড়িচংয়ে নিখোঁজের দুই দিন পর পুকুরে মিলল ভারতীয় মেডিকেল শিক্ষার্থীর মরদেহ ● ফ্লোরিডায় উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত,৬ কিলোমিটার দূরে মিলল গুরুত্বপূর্ণ ধ্বংসাবশেষ, তদন্তে নতুন সূত্র ● ডিসেম্বরের মধ্যে পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)
আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচনে ২০২৬

আল জাজিরার নিবন্ধ চরম সাংবিধানিক সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে....যুক্তরাষ্ট্র

আ জা আন্তর্জাতিক ডেক্স

, বব

প্রকাশ : বুধবার, ৪ নভেম্বর,২০২৬, ১১:০৪ পিএম
আল জাজিরার নিবন্ধ চরম সাংবিধানিক সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে....যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে ০৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচনে সদ্য বিজয়ী ডেমোক্র্যাটদের হাতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ থাকার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে শুধু আইন পাসের অচলাবস্থা তৈরি হবে না।

বরং প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা কতটা বিস্তৃত হতে পারে, তা নিয়ে শুরু হতে পারে উত্তপ্ত ও অনিশ্চিত এক সংঘাত।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কংগ্রেসের মধ্যে আগামী দিনের সংঘাত বুঝতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাগুলো আগে সরিয়ে রাখতে হবে।

দেশটি এমন এক রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, যার সাম্প্রতিক ইতিহাসে কোনো নজির নেই।

একদিকে রয়েছেন এমন একজন জনতুষ্টিবাদী প্রেসিডেন্ট, যিনি রাজনৈতিক আদর্শ বা প্রচলিত নীতির চেয়ে নিজের স্বার্থে সমঝোতা ও দর-কষাকষিকে বেশি গুরুত্ব দেন।

অন্যদিকে রয়েছে তাঁর রাজনৈতিক বিরোধিতায় ঐক্যবদ্ধ একটি আইনসভা।

ফলে দুই পক্ষকে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে চলতে হবে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষণ:

প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, এর ফলে শুরুতেই সরকার পরিচালনায় অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার কথা।

কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি এতটা সরল নয়। ট্রাম্প রাজনীতিকে রক্ষণশীল আদর্শ কিংবা সংবিধানের নির্ধারিত সীমারেখা দিয়ে বিচার করেন না।

তাঁর কাছে রাজনীতি মূলত সমঝোতা ও দর-কষাকষির বিষয়। তাই তাঁর শাসনামলে শুধু নিষ্ক্রিয়তা বা স্থবিরতা দেখা যাবে না।

বরং নিজের স্বার্থে দুই দলের মধ্যে সাময়িক সমঝোতা এবং প্রয়োজনে একক সিদ্ধান্তে ক্ষমতা প্রয়োগ—দুই ধরনের প্রবণতাই দেখা যেতে পারে।

এতে পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠবে। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে দলীয় আদর্শের প্রচলিত বিভাজনও কিছুটা অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে।

কয়েক দশক ধরে রিপাবলিকান পার্টির পরিচয় ছিল সীমিত সরকারি হস্তক্ষেপ এবং মুক্তবাজার অর্থনীতির পক্ষে অবস্থান নেওয়া।

কিন্তু গত এক দশকে ট্রাম্প এই রাজনৈতিক ঐকমত্য ভেঙে দিয়েছেন।

প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষই ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় প্রচলিত রক্ষণশীল নীতির প্রতি তাঁর বিশেষ আনুগত্য থাকবে না।

বরং যেসব বিষয়ে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে তাঁর অবস্থানের মিল রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে সমঝোতার চেষ্টা করতে পারেন তিনি।

বড় অবকাঠামো প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয়, আমদানি পণ্যের ওপর সুরক্ষামূলক শুল্ক আরোপ এবং দেশের উৎপাদনশিল্প রক্ষায় সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপের মতো বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান অনেক সময় ডেমোক্র্যাটদের মধ্যপন্থী ও মধ্য-বাম ধারার নীতির কাছাকাছি।

এ ক্ষেত্রে সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের রক্ষণশীল অর্থনৈতিক দর্শনের চেয়েও ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে তাঁর মিল বেশি।

ট্রাম্প এমন কিছু আইন প্রস্তাব করতে পারেন, যেগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও নির্বাচনী এলাকায় লাখ লাখ ডলার বিনিয়োগ হবে কিংবা শ্রমজীবী ভোটারদের স্বার্থ রক্ষায় শুল্ক আরোপ করা হবে।

তখন ডেমোক্র্যাটদের সামনে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। কারণ, এসব আইন আটকে দিলে নিজ নিজ এলাকার উন্নয়ন ও ভোটারদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

এভাবে দুই পক্ষের মধ্যে একধরনের অস্বাভাবিক ও সাময়িক জোট তৈরি হতে পারে।

তবে এই সমঝোতা কোনো স্থায়ী রাজনৈতিক ঐক্যের ভিত্তিতে হবে না। বরং প্রতিটি ইস্যুতে আলাদা দর-কষাকষির মাধ্যমে তা গড়ে উঠবে এবং প্রয়োজন শেষ হলে ভেঙেও যাবে।

এর লক্ষ্য হবে—জনতুষ্টিবাদী প্রেসিডেন্ট ও রাজনৈতিকভাবে চাপে থাকা কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল, উভয় পক্ষই যেন নিজেদের বিজয়ী হিসেবে তুলে ধরতে পারে।

তবে এ ধরনের সমঝোতা যেখানে সম্ভব হবে না, সেখানে সংঘাতের ক্ষেত্র আইনসভা থেকে সরে গিয়ে নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রশাসনিক ব্যবস্থায় চলে যাবে।

ক্ষমতা ভাগাভাগির কারণে তৈরি হওয়া প্রচলিত সীমাবদ্ধতা ট্রাম্প মেনে নেবেন না।

প্রয়োজনে তিনি একক নির্দেশের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার চেষ্টা করবেন।

কংগ্রেসের বিরোধিতা এড়িয়ে যেতে তিনি নির্বাহী আদেশ, জরুরি অবস্থা ঘোষণা এবং প্রচলিত ফেডারেল আইন নিজের মতো করে ব্যাখ্যা করার পথ বেছে নিতে পারেন।

এর মাধ্যমে কংগ্রেসের বাধা উপেক্ষা করে নিজের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন তিনি।

একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাট নেতাদের সামনে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেন, যাতে তাঁরা বাধ্য হয়ে ফেডারেল আদালতে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এভাবে আদালতের দীর্ঘসূত্রতাকেও রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই ভঙ্গুর সাংবিধানিক ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হবে না।

বরং তা দেখা যাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতিতে।

কারণ, সংবিধান অনুযায়ী পররাষ্ট্র ও সামরিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বেশি।

এই সংঘাতের তাৎক্ষণিক কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে ইরান।

ট্রাম্পের ইরান নীতির মূল ভিত্তি হলো দেশটির ওপর সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে অনিশ্চিত ও অপ্রচলিত সামরিক কৌশলের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা।

এই নীতির উদ্দেশ্য হলো, প্রতিপক্ষ যেন যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে না পারে এবং সব সময় সতর্ক থাকতে বাধ্য হয়।

কিন্তু ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কংগ্রেস এই কৌশলকে ভিন্নভাবে দেখবে।

ঐতিহাসিকভাবে ডেমোক্র্যাটরা বহুপক্ষীয় কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিরোধ মীমাংসার পক্ষে।

এ ছাড়া কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া অন্য দেশের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িয়ে পড়ার বিষয়েও দলটির আপত্তি রয়েছে।

ফলে ট্রাম্পের অনিশ্চিত সামরিক কৌশলকে তারা কৌশলগত সুবিধা হিসেবে নয়, বরং বড় ধরনের বিপদ হিসেবে বিবেচনা করবে।

এ কারণে ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ারস রেজল্যুশন বা যুদ্ধক্ষমতা-সংক্রান্ত আইন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ঐতিহাসিক সাংবিধানিক সংঘাত তৈরি হতে পারে।

ডেমোক্র্যাটরা অর্থ বরাদ্দের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণকে জোরালোভাবে কাজে লাগিয়ে প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতার ওপর আইনি সীমা আরোপের চেষ্টা করবে।

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ আটকে দেওয়া কিংবা তেহরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্টের এককভাবে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া নিষিদ্ধ করার উদ্যোগও নিতে পারে তারা।

ট্রাম্প আইনপ্রণেতাদের এ ধরনের বাধাকে প্রকাশ্যেই অবজ্ঞা করবেন।

সংবিধানের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তৃত ব্যাখ্যা তুলে ধরে তিনি দাবি করতে পারেন, আধুনিক বিশ্বের ভূরাজনৈতিক হুমকি মোকাবিলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের থাকা প্রয়োজন।

কংগ্রেসের বিভিন্ন কমিটির আলোচনা বা অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকলে চলবে না।

ফলে যখন ক্ষেপণাস্ত্র উড়বে এবং সামরিক সংঘাত শুরু হবে, তখন ট্রাম্প নিজেই একক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

আর কংগ্রেস তখন কার্যত গুরুত্বহীন আইনি ও তাত্ত্বিক বিতর্কে ব্যস্ত থাকবে।

এই পুরো রাজনৈতিক সংঘাতের ওপর ঝুলে থাকবে সংবিধানের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অস্ত্র—কংগ্রেসের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের হুমকি।

ওয়াশিংটনে যখন প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষই প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক বিরোধীদের নিয়ন্ত্রণে, তখন সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার স্বাভাবিক প্রক্রিয়াও ভিন্ন রূপ নিতে পারে।

সরকারের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি আর শুধু শাসনব্যবস্থার অংশ থাকবে না; বরং তা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করার হাতিয়ারে পরিণত হতে পারে।

ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেসের বিভিন্ন কমিটির প্রধানেরা একযোগে তদন্ত শুরু করতে পারেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষ্য দিতে তলব করতে পারেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের মন্ত্রিসভার প্রত্যেক সদস্যকে নিয়মিত জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মুখে পড়তে হতে পারে।

পররাষ্ট্রনীতির প্রতিটি সিদ্ধান্তেও গুরুতর অপরাধ বা অসদাচরণের প্রমাণ খুঁজতে তদন্ত চালানো হতে পারে।

প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের অভিযোগপত্র তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল।

তবে এটি কেবল গুরুতর অসদাচরণের মতো বিরল পরিস্থিতিতে নেওয়া ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে নয়, বরং রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে নিয়মিত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

তবে ডেমোক্র্যাটদের এই কৌশলও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ট্রাম্প প্রাতিষ্ঠানিক সংঘাতকে ভয় পান না বরং এ ধরনের সংঘাতকে নিজের রাজনৈতিক শক্তি বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে কাজে লাগান।

কংগ্রেসের তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনাগুলোকে তিনি জনসমক্ষে রাজনৈতিক ক্ষোভ প্রকাশের মঞ্চে পরিণত করতে পারেন।

তাঁর সমর্থকদের কাছে তিনি বিরোধী কংগ্রেসকে সরকারের একটি সমান ক্ষমতাসম্পন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং জনগণের মতামত উপেক্ষা করে সরকারকে বাধাগ্রস্ত করতে চাওয়া একটি অবৈধ রাজনৈতিক চক্র হিসেবে তুলে ধরতে পারেন।

তিনি দাবি করতে পারেন, এই কংগ্রেস সাধারণ আমেরিকান ভোটারদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করছে।

সিনেটে প্রেসিডেন্টকে পদ থেকে সরাতে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।

ফলে এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা ডেমোক্র্যাটদের জন্য প্রায় অসম্ভব। তাই অভিশংসনের উদ্যোগ নিলেও ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউস থেকে সরানো বাস্তবসম্মত নয়।

এর বদলে অভিশংসন প্রক্রিয়া সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও টানাপোড়েন তৈরি করবে।

যুক্তরাষ্ট্র এখন আইন প্রণয়ন ও সরকার পরিচালনায় দুই বছরের স্থবিরতার দিকে এগোচ্ছে না।

বরং দেশটি এমন এক সময়ের দিকে যাচ্ছে, যখন সংবিধান নিয়ে সংঘাত ও ক্ষমতার টানাপোড়েন প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হতে পারে।

প্রতিটি সংকটের মাঝখানে খুব অল্প সময়ের জন্য স্বাভাবিকভাবে সরকার পরিচালনার সুযোগ থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব সামাল দেওয়ার উপযোগী করেই তৈরি করা হয়েছে।

কিন্তু এই ব্যবস্থা কার্যকর রাখতে হলে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে অন্য প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক ক্ষমতা ও সীমারেখার প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধা দেখাতে হয়।

হোয়াইট হাউসে যখন এমন একজন প্রেসিডেন্ট রয়েছেন, যিনি আদর্শের চেয়ে নিজের স্বার্থে সমঝোতা ও দর-কষাকষিকে বেশি গুরুত্ব দেন, আর ক্যাপিটল হিলে যখন তাঁর বিরোধিতায় ঐক্যবদ্ধ আইনপ্রণেতারা অবস্থান করছেন, তখন যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক সীমারেখা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড় পরীক্ষার মুখে পড়বে।

দেশটির শাসনব্যবস্থার কাঠামো হয়তো টিকে থাকবে, কিন্তু এর ভিত্তি প্রবলভাবে কেঁপে উঠবে।

লেখক: অ্যাডলফ ফ্রাঙ্কো রিপাবলিকান কূটনীতিক, পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক এবং ট্রাম্পের ২০১৬ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার প্রধান।

সম্পর্কিত

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)