মিজানুর রহমান, সিদ্ধিরগঞ্জ নারায়নগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের অন্যতম সদস্য ও সিটি কর্পোরেশনের ১নং ওয়ার্ডে আসন্ন নির্বাচনে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা বক্তব্য প্রদান করে পত্রিকা ও অনলাইনসহ ফেসবুকে সংবাদ প্রকাশ করায় ৫ জনের বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করেছেন তিনি।
গত ০১ নভেম্বর রবিবার নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সেলিনা খাতুনের সিদ্ধিরগঞ্জ আমলী আদালতে শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে এই নাশিলি মামলাটি দায়ের করেন।
আদালত মামলার নালিশটি গ্রহণ করে দ্রুত তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নারায়ণগঞ্জ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)কে নির্দেশ প্রদান করেছেন।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাজহারুল ইসলাম রোকন। মামলার আসামীরা হলো- সিদ্ধিরগঞ্জের সিআই খোলা বালুর মাঠ এলাকার কাদির মোল্লার ৫ পুত্র তানভীর হাসান (৪০), অমরিত হাসান মিঠুন (৩৬), তরিকুল হাসান রুবেল (৩৩), ইফতেখার হাসান জুয়েল (৩০), মেহেদী হাসান রকি ওরফে রকি মোল্লা।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাজহারুল ইসলাম রোকন আরো জানান, বাদী শহিদুল ইসলাম একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তি এবং এলাকায় সামাজিক ও ব্যবসায়িক তাহার যথেষ্ট সুনাম রয়েছে।
বাদী নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে ১নং ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে সম্ভাব্য একজন প্রার্থী। এমতাবস্থায় আসামীগণ গত ২৯/১০/২০২৬ প্রকাশিত ‘দৈনিক ডান্ডিবার্তা’ নামক পত্রিকাসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ফেসবুক পেজে ভিডিও বার্তা ও অনলাইনের মাধ্যমে বাদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর বক্তব্য প্রদান ও প্রকাশ করিয়া বাদীর মানহানি করিয়াছেন।
মামলা সূত্রে জানাগেছে, গত ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ’দৈনিক ডান্ডিবার্তা’ নামক পত্রিকার ৪র্থ পাতায় ৩ কলামে ‘সিদ্ধিরগঞ্জে নির্মাণাধীন বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে, যেখানে সংবাদের গর্ভে বাদীর নাম ও উপরে বাদীর ছবিসহ প্রকাশিত হয়।
সংবাদটির গর্ভে বাদীকে মিথ্যাভাবে অভিযুক্ত করিয়া ১নং আসামী প্রকাশিত সংবাদে বক্তব্যে বলেন যে, ‘গত কয়েক দিন আগে আমরা আমাদের জমিতে বাউন্ডারীর কাজ শুরু করি।
ওই সময় যুবদল নেতা সোহেল, হাবিবুর, কামরুল হাসান যুবদল নেতা শহিদুল ইসলামের শেল্টারে আমাদের বাড়ি নির্মাণ কাজে বাধা ও ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে’ বলিয়া মিথ্যা বক্তব্য প্রদান করিয়া বাদীর মানহানি করিয়াছেন।
১নং আসামী আরো মিথ্যা বক্তব্য দেন যে, ‘যুবদল নেতা শহিদুল ইসলাম, সোহেল খান ও স্বেচ্ছাসেবক দলের হাইব্রিড নেতা হাবিবুর রহমান বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে জোর করে এবং ভূয়া দলিল দেখিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করে’ বলে বাদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা বক্তব্য প্রদান করিয়া মানহানি করিয়াছেন।
ইহা ছাড়াও ৫নং আসামী তাহার ফেসবুকে বাদীর ছবিসহ ‘দৈনিক আজকের প্রতিবাদ’ অনলাইনের স্টীকারসহ একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করিয়াছে যেখানে ২নং থেকে ৪নং আসামীর অংশগ্রহণে ১নং আসামী বাদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মানহানিকর বক্তব্য প্রদান করিয়া মানহানি করিয়াছেন।
‘নারায়ণগঞ্জ ভিশন’ নামক একটি ফেসবুক পেজে বাদীর ছবিসহ ‘সিদ্ধিরগঞ্জ জমি দখল নিয়ে বিরোধ, যুবদল নেতা শহিদুলের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ’ শিরোনামে ভিডিও বার্তা প্রকাশিত হয় যেখানে সকল আসামীর মিথ্যা বক্তব্য প্রকাশিত হইয়াছে, যাহাতে বাদীর মানহানি ঘটিয়াছে।
‘দ্যা ডেইলি উজ্জীবিত বাংলাদেশ’ নামক একটি অনলাইনের ফেসবুক পেজে ‘সিদ্ধিরগঞ্জে যুবদল নেতা শহিদুল ইসলাম বাহিনীর নেতৃত্বে নির্মানাধীন বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ’ শিরোনামে ভিডিও বার্তা প্রকাশিত হইয়াছে, যেখানে সকল আসামীগণ বাদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মানহানিকর বক্তব্য প্রকাশ করিয়াছেন।
২নং ও ৩নং স্বাক্ষীর উপস্থিতিতে উক্ত আসামীগণের দেয়া মিথ্যা বক্তব্য বিবৃতিতে প্রকাশিত সংবাদ ও ফেসবুক পেজে ভিডিও বার্তাগুলো বাদীর দৃষ্টিগোচর হইয়াছে বটে।
এই ধরণের সংবাদ ও ভিডিও বার্তায় বিভিন্ন ফেসবুক পেজে ও অনলাইন এবং পত্রিকায় ভিন্ন ভিন্ন শিরোনামে বাদীর বিরুদ্ধে প্রকাশিত হইয়াছে, যাহা উক্ত বাদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভূয়া, কাল্পনিক, সৃজিত বক্তব্য লিপি করিয়া ও কাল্পনিক তথ্যের ফলে বাদীর মান-সম্মান মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হইয়াছে এবং এলাকায় হেয়প্রতিপন্ন হয়েছেন, যাহাতে বাদীর প্রায় ৫ কোটি টাকার সম্মান ক্ষতি সাধিত হইয়াছে এবং আসামীগণ দণ্ডবিধি-১৮৬০ এর ৪৯৯ ধারার অপরাধ করেছে যাহা ৫০০, ৫০১, ৫০২ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
উপরোক্ত মিথ্যা সংবাদ ও বক্তব্যের বিষয়টি আসামীগণ লোকমুখে ছড়াছড়ি করিয়া, ফেসবুকে ছড়াইয়া দিয়া ও পত্রিকা বিলি বিতরণ করিয়া বাদীর মারাত্মক মানহানি করিয়াছেন। যাহার ফলে বাদীর মানহানিসহ শারীরিক ও মানসিক মারাত্মক ক্ষতি সাধন হইতেছে।
প্রকৃতপক্ষে সত্য হইলো যে, আসামীগণের এলাকায় আসামীগণের সঙ্গে সোহেল গংদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ রহিয়াছে বটে।
উক্ত জমি সংক্রান্ত বিষয়ে বাদী কোনো দাতা গ্রহীতা কিংবা কোনো পক্ষ নন, এমনকি তাহাদের উভয়পক্ষ বাদীর কোনো আত্মীয়স্বজনও নন।
বাদী সব সময় এলাকার চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়াছেন।
বাদী আসন্ন সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন বিধায় বাদীর প্রতিপক্ষের দ্বারা প্রভাবিত হইয়া বাদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা কাল্পনিক বক্তব্য প্রদান করিয়া আসামীগণ মানহানি করিয়াছেন।