মাহবুবুর রহমান ভূইয়া, ডেমরা ঢাকা
এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সাফল্য ধরে রেখেছে রাজধানীর ডেমরার সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২২৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
পাসের হার ৯৯ দশমিক ০৭ শতাংশ। বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৫৯ জন, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ২৭ জন এবং মানবিক বিভাগ থেকে ৪২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। উৎসবমুখর হয়ে ওঠে প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস।
এ সাফল্যে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ মো. মাহবুবুর রহমান মোল্লা ও গভর্নিং বডির সভাপতি মো. ফেরদৌস হোসেন।
ফল প্রকাশের পর শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অধ্যক্ষ বলেন, শিক্ষার্থীদের শ্রম ও নিষ্ঠা, শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টা এবং অভিভাবকদের সহযোগিতায় এ ফল অর্জন সম্ভব হয়েছে।
তবে প্রত্যাশা আরও বেশি ছিল। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী দিনে প্রতিষ্ঠানের ফলাফল আরও ভালো হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিজ্ঞান বিভাগের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী তানজিদা আক্তার বলেন, তাঁর ফলাফল প্রত্যাশা পূরণ করেছে।
এ জন্য তিনি মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন এবং মা-বাবা ও শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
অন্যদিকে, কলেজ ইনচার্জ ও গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, ভালো ফলাফলের জন্য প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত সচেতনভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য তিনি শুভকামনা জানান। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী শওরিন জান্নাত সুহীর মা আফরোজা সুলতানা বলেন, অধ্যক্ষের পরিকল্পনা ও শিক্ষকদের পরিশ্রমের কারণে তাঁর মেয়ে ভালো ফল করতে পেরেছে।
এ জন্য তিনি প্রতিষ্ঠানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে গত কয়েক বছর ধরেই সাফল্য ধরে রেখেছে সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ছিল ৯৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। ওই বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৪২৩ জন শিক্ষার্থী।
এ ছাড়া ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ছিল ৯৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৮০৩ জন।
উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা সাফল্য পেয়েছে।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে এইচএসসি উত্তীর্ণদের মধ্যে ৩০ জন সরকারি মেডিকেল কলেজে এবং ১৫০ জন বিভিন্ন প্রকৌশল ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির সাবেক শিক্ষার্থীদের অনেকে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন।
কেউ কেউ ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে পিএইচডি গবেষণায় যুক্ত রয়েছেন।
প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের মতে, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর এবং শিক্ষক-অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এ সাফল্য এসেছে।
আগামী দিনেও এ ধারাবাহিকতা বজায় রেখে শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যাশা তাদের।