নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেডে অবস্থিত রপ্তানীমূখী গার্মেন্টস কারখানার ওয়েষ্টেজ মালামাল পরিবহনে পরিমান কম দেখিয়ে প্রতি মাসে কমপক্ষে প্রায় ২ থেকে আড়াই কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিন কাষ্টমস অফিসে লিখিত অভিযোগ করে প্রতিকার না পেয়ে মহামান্য হাইকোর্টে রীট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে।
কারখানা থেকে ব্যবসায়ীরা প্রতি ট্রাকে ১০ থেকে ১২ টন ওয়েষ্টেজ বোঝাই করে কাস্টমস গেটে নিয়ে আসলে কিছু অসাধু কর্মকর্তা প্রতি ট্রাকে ১ টনেরও কম মালামাল দেখিয়ে মাত্র ১০ হাজার টাকা শুল্ক আদায় করছে।
যেখানে প্রতি ট্রাকে ১০ থেকে ১২ টন ওয়েষ্টেজ এর জন্য শুল্কের পরিমান হয় ১ লক্ষ থেকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা।
এভাবে ট্রাক প্রতি ১ লক্ষ টাকার বেশি শুল্ক ফাঁকি দিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। এ হিসাবে প্রতি মাসে আদমজী ইপিজেড থেকে ২ শ’ থেকে আড়াইশ ট্রাক মালামাল পরিবহন হওয়ায় সরকার ২ থেকে আড়াই কোটি টাকার শুল্ক থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী এলাকায় ৩শ’ একর জমির উপর অবস্থিত এশিয়ার বৃহত্তম জুট মিল আদমজী জুট মিল ক্রমাগত লোকসানের কারণে গত ২০০২ সালে বন্ধ হয়ে যায়।
এরপর উক্ত স্থানেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আদমজী ইপিজেড উদ্ভোধন করেন।
বর্তমানে আদমজী ইপিজেডে শতাধিক কারখানা স্থাপিত হলেও ৬২টি রপ্তানীমূখী কারখানা চালু রয়েছে।
এসব কারখানায় প্রতি মাসে বিপুল পরিমান ওয়েষ্টেজ বা গার্ভেজ হয়।
উক্ত ওয়েষ্টেজ বা গার্ভেজ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্রয় করে ট্রাকের মাধ্যমে পরিবহন করে বন্ডেড এরিয়া আদমজী ইপিজেড এলাকা থেকে অন্যত্র নিয়ে যায়।
এসময় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ট্রাকে থাকা ওয়েষ্টেজ বা গার্ভেজের পরিমানের উপর সরকার নির্ধারিত শুল্ক ধার্য্য করে তা পরিশোধ সাপেক্ষে চালানের মাধ্যমে ইপিজেডের নিরাপত্তা বেস্টনী থেকে বের করছে।
কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা অসাধু কাস্টমস কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ট্রাকে থাকা ওয়েষ্টেজের পরিমান কম দেখিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে সরকারকে বিপুল পরিমান রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করছে।
একটি সুত্র জানায়, আদমজী ইপিজেডে অবস্থিত কারখানা থেকে প্রতিমাসে আড়াইশরও বেশি ট্রাক ওয়েষ্টেজ বা গার্ভেজ বের হয় যেখানে প্রতি ট্রাকে ১০ থেকে ১২ টন মালামাল থাকে।
কারখানা থেকে ব্যবসায়ীরা প্রতি ট্রাকে ১০ থেকে ১২ টন ওয়েষ্টেজ বোঝাই করে কাস্টমস গেটে নিয়ে আসলে প্রতি ট্রাকে ১ টনেরও কম মালামাল দেখিয়ে মাত্র ১০ হাজার টাকা শুল্ক আদায় করছে।
যেখানে প্রতি ট্রাকে ১০ থেকে ১২ টন ওয়েষ্টেজ এর জন্য ১ লক্ষ থেকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা শুল্ক আদায় করার কথা।
এভাবে ট্রাক প্রতি ১ লক্ষ টাকার বেশি শুল্ক হারাচ্ছে সরকার। প্রতি মাসে আদমজী ইপিজেডের কারখানার ২ থেকে আড়াইশ ট্রাক মালামাল পরিবহন হওয়ায় সরকার প্রতি মাসে ২ থেকে আড়াই কোটি টাকা শুল্ক থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এ হিসাবে প্রতি বছর সরকার ২৪ থেকে ৩০ কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।
গতকাল আদমজী ইপিজেডের কাস্টমস গেটে দিয়ে সরেজমিনে দেখা যায়. ১০ থেকে ১৫ টন ওয়েষ্টেজ মালামাল বোঝাই ট্রাক কাস্টমস গেটের সামনে অপেক্ষা করছে।
এসময় নিরাপত্তা রক্ষীরা জানায়, প্রতিটি ট্রাকে ১০ টনেরও বেশি মালামাল রয়েছে।
এসময় কাস্টমস অফিসে গিয়ে জানতে চাইলে তারা জানায়, আমাদের ইন্সপেক্টর এসেসম্যান্ট করে যে পরিমান মালামাল পেয়েছে সেই পরিমান মালের শুল্ক পরিশোধ সাপেক্ষে ট্রাক বন্ডেব এরিয়ার বাইরে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে আদমজী ইপিজেডে কাস্টম সরকারি ও কাস্টমস ইন্সপেক্টর সাথে কথা বলতে চাইলে তারা পেরিয়ে যান।
এখানে কোন অনিয়মের সুযোগ নাই। কিন্তু এসেসম্যান্ট ডকুমেন্টে দেখা যায় ট্রাকে মাত্র ১ টন মাল রয়েছে যেখানে চালানে লেখা রয়েছে ১০ টন।
এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে শুল্ক ফাঁকি চলছে ওয়েষ্টেজ/গার্ভেজ মালামাল বিক্রির মাধ্যমে।
বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে জনৈক এক ব্যবসায়ী স্থানীয় থানা ও জেলা পুলিশ সুপারের বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
তার অভিযোগে দেখা যায়, বেপজার তালিকাভূক্ত একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ওয়েষ্টেজ মালামাল শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ট্রাক যোগে বাহিরে যাচ্ছে।
শুধু এ প্রতিষ্ঠান নয় ওয়েস্টেজ মালামাল ক্রয়কারী সব প্রতিষ্ঠান এভাবেই প্রতিমাসে বিপুল পরিমান শুল্ক ফাঁকি দিচ্ছে।
তার আবেদনের প্রেক্ষিতে কোন উদ্যোগ না নেওয়ায় ঢাকা দক্ষিন কাস্টম্স কমিশনারেট এর বরাবরে শুল্ক ফাঁকির বিষয়টি লিখিত আবেদন করেন।
এরপরও কার্যকর কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় সংশ্লিষ্টদের লিগ্যাল নোটিশ প্রদানের পর মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
শুল্ক ফাঁকি দেয়া ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা।