নিজস্ব প্রতিবেদক লক্ষ্মীপুর
চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপপুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী।
মাদককে কেন্দ্র করে সংঘটিত অপরাধ কমাতে এবং মাদকের ভয়াবহতা রোধে চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলা থেকে মাদকের শেষ শিকড় ও গডফাদার থেকে শুরু করে চুনোপুঁটি পর্যন্ত উপড়ে ফেলা হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপপুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে লক্ষ্মীপুর টাউন হলে জেলা পুলিশের আয়োজনে মাদকবিরোধী সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন ডিআইজি বলেন, মাদক কারবারি, মাদকসেবী, ডিলার, গডফাদার, অর্থদাতা ও বিনিয়োগকারী—কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
দেশে সংঘটিত অপরাধের অর্ধেকের বেশি আসামি কোনো না কোনোভাবে মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত। মানুষকে মাদক থেকে দূরে রাখতে পারলে অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে।
তিনি বলেন, মাদকের কারণে মানুষ হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এর ভয়াবহতায় চাচার হাতে ভাতিজি ধর্ষণ এবং সন্তানের হাতে বাবা-মা খুনের মতো ঘটনাও ঘটছে।
সর্বাত্মক মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে জানিয়ে আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন।
সেই নীতির আলোকে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১টি জেলায় সর্বাত্মক মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে।
প্রত্যেক ইউনিয়ন, থানায় ও ওয়ার্ডে মাদকবিরোধী সমাবেশ করা হবে। লক্ষ্মীপুরকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে এ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। তিনি আরও বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে রাখতে হবে।
তাদের আগামী দিনের নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে মাদকের কুফল সম্পর্কে অবহিত করতে হবে।
পাশাপাশি আইনজীবীদের মাদকসেবীদের পক্ষে দাঁড়ানো থেকে বিরত থাকা, ইমাম ও পুরোহিতদের ধর্মীয় উপাসনালয় থেকে মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরা এবং রাজনৈতিক নেতাদের সামাজিক আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেকের সভাপতিত্বে সমাবেশে জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাহাব উদ্দিন সাবু, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ইউসুফ, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক এডভোকেট হাছিবুর রহমান, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এ আর হাফিজ উল্লাহসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, শিক্ষক, আইনজীবী, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সমাবেশ শেষে টাউন হক থেকে একটি বর্ণাঢ্য মাদকবিরোধী শোভাযাত্রা বের হয়।
শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা পরিষদে গিয়ে শেষ হয়।