আ জা আন্তর্জাতিক ডেক্স বিনোদন
ভারতের চলচ্চিত্র অঙ্গনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আয়োজন ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়ান ফিল্ম একাডেমি (আইফা) অ্যাওয়ার্ডসের ২৬তম আসরে সবচেয়ে বেশি পুরস্কার পেয়েছে আদিত্য ধর পরিচালিত অ্যাকশন-থ্রিলার সিনেমা ‘ধুরন্ধর’।
সেরা চলচ্চিত্র, সেরা পরিচালক ও সেরা অভিনেতাসহ মূল এবং কারিগরি বিভাগের মোট ১২টি পুরস্কার জিতেছে সিনেমাটি।
‘ধুরন্ধর’-এ অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার স্বীকৃতি পেয়েছেন রণবীর সিং। অন্যদিকে রোমান্টিক সিনেমা ‘সাইয়ারা’য় অভিনয় করে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেছেন আনীত পাড্ডা।
শনিবার ৩১ অক্টোবর আইফার আনুষ্ঠানিক ইনস্টাগ্রাম পেজে এবারের আসরের বিজয়ীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়।
পুরস্কারের সংখ্যার দিক থেকে অন্য সব সিনেমাকে ছাড়িয়ে গেছে ‘ধুরন্ধর’।
ছবিটি প্রযোজনার জন্য সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছেন জ্যোতি দেশপাণ্ডে, আদিত্য ধর ও লোকেশ ধর।
পরিচালনার পাশাপাশি সিনেমাটির মৌলিক গল্প, চিত্রনাট্য ও সংলাপের জন্যও পুরস্কার পেয়েছেন আদিত্য ধর। সব মিলিয়ে ব্যক্তিগতভাবে চারটি পুরস্কার উঠেছে তাঁর হাতে।
অভিনয়শিল্পীদের মধ্যেও ছবিটির সাফল্য ছিল উল্লেখযোগ্য। কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের জন্য রণবীর সিং সেরা অভিনেতা নির্বাচিত হয়েছেন।
পার্শ্বচরিত্রে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন সঞ্জয় দত্ত এবং খলনায়কের ভূমিকায় অভিনয়ের জন্য সেরা হয়েছেন অক্ষয় খান্না।
কারিগরি বিভাগেও একাধিক পুরস্কার পেয়েছে ‘ধুরন্ধর’। সিনেমাটির সংগীত পরিচালনার জন্য শাশ্বত সচদেব, চিত্রগ্রহণের জন্য বিকাশ নওলাখা, সম্পাদনার জন্য শিবকুমার ভি পানিকার এবং শব্দ পরিকল্পনার জন্য বিশ্বদীপ চট্টোপাধ্যায় পুরস্কৃত হয়েছেন। ‘
সাইয়ারা’র একাধিক পুরস্কার:
মোহিত সুরি পরিচালিত ‘সাইয়ারা’ও এবারের আয়োজনে একাধিক বিভাগে স্বীকৃতি পেয়েছে।
সিনেমাটিতে অভিনয়ের সুবাদে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেছেন আনীত পাড্ডা।
একই ছবির মাধ্যমে সেরা নবাগত অভিনেতার সম্মাননা পেয়েছেন আহান পান্ডে।
সংগীত বিভাগেও ছবিটির সাফল্য ছিল উল্লেখযোগ্য। ‘সাইয়ারা’র জন্য সেরা গীতিকারের পুরস্কার পেয়েছেন ইরশাদ কামিল।
আর প্লেব্যাক গায়ক ও গায়িকা হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন যথাক্রমে ফাহিম আবদুল্লাহ ও শ্রেয়া ঘোষাল।
এ ছাড়া ‘জলি এলএলবি ৩’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন হুমা কুরেশি।
‘আজাদ’ ছবিতে অভিনয়ের সুবাদে সেরা নবাগত অভিনেত্রীর স্বীকৃতি অর্জন করেছেন রাশা থাদানি।
অন্যদিকে ‘হোমবাউন্ড’ সিনেমার গল্পকার বাশারাত পীর, সুমিত রায় ও নীরাজ ঘেওয়ান পেয়েছেন সেরা অভিযোজিত গল্পের পুরস্কার।
আন্তর্জাতিক ও কারিগরি বিভাগে পুরস্কার:
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বিভাগে সেরা সিনেমার পুরস্কার জিতেছে জেমস ক্যামেরন পরিচালিত ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত ‘ছাওয়া’ সিনেমাও কারিগরি বিভাগে তিনটি পুরস্কার পেয়েছে।
এর মধ্যে সেরা আবহসংগীতের স্বীকৃতি পেয়েছেন এ আর রহমান। সেরা শব্দ মিশ্রণের পুরস্কার অর্জন করেছেন অলোক দে।
আর সেরা দৃশ্যপ্রযুক্তির সম্মাননা পেয়েছে অ্যাসেমব্লেজ এন্টারটেইনমেন্ট ও রিডিফাইন।
অন্যদিকে ‘ওয়ার ২’ এবং ‘আভান জাভান’ গানের নৃত্য পরিচালনার জন্য পুরস্কার জিতেছেন বসকো লেসলি মার্টিস।
ডিজিটাল বিভাগে আরিয়ান খানের সিরিজের জয়:
ওটিটি ও ডিজিটাল কনটেন্টের বিভিন্ন বিভাগেও পুরস্কার পেয়েছে বেশ কয়েকটি আলোচিত কাজ।
এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে আরিয়ান খানের পরিচালনায় নির্মিত প্রথম সিরিজ ‘দ্য ব্যাস্টার্ডস অব বলিউড’।
সেরা সিরিজসহ মোট চারটি বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে এটি। সিরিজটির পরিচালনার জন্য সেরা পরিচালকের স্বীকৃতিও পেয়েছেন আরিয়ান খান।
এ সিরিজে অভিনয়ের জন্য ডিজিটাল সিরিজের পার্শ্বচরিত্র বিভাগে সেরা অভিনেতা ও অভিনেত্রী হয়েছেন যথাক্রমে রাঘব জুয়াল ও অনন্যা সিং।
এ ছাড়া সিরিজটির শিরোনাম সংগীতের জন্য পুরস্কার পেয়েছেন উজ্জ্বল গুপ্ত। অপরাধভিত্তিক সিরিজ ‘পাতাল লোক ২’ থেকেও একাধিক পুরস্কার এসেছে।
এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতা নির্বাচিত হয়েছেন জয়দীপ আহলাওয়াত।
সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন তিলোত্তমা সোম। সিরিজটি সেরা মৌলিক গল্পের পুরস্কারও জিতেছে।
ডিজিটাল সিনেমা ও তথ্যচিত্রেও সাফল্য:
ডিজিটাল পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের বিভাগে ‘বারামুল্লা’ সেরা সিনেমা এবং সেরা মৌলিক গল্প—দুই পুরস্কারই পেয়েছে।
‘স্টোলেন’ ছবির পরিচালনার জন্য সেরা পরিচালকের সম্মাননা অর্জন করেছেন করণ তেজপাল।
একই সিনেমায় অভিনয়ের সুবাদে সেরা অভিনেতা হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
‘মিসেস’ সিনেমায় অভিনয় করে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেছেন সানিয়া মালহোত্রা।
এ ছাড়া ডিজিটাল চলচ্চিত্রের পার্শ্বচরিত্র বিভাগে ‘দ্য মেহতা বয়েজ’-এর জন্য সেরা অভিনেতা হয়েছেন অভিনাশ তিওয়ারি।
‘নিশানচি ২’-এ অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর স্বীকৃতি পেয়েছেন মনিকা পানওয়ার।
তথ্যচিত্র ও ধারাবাহিক তথ্যচিত্র বিভাগে সেরা নির্বাচিত হয়েছে নেটফ্লিক্সের ‘দ্য রোশানস’।
অন্যদিকে সেরা বাস্তবধর্মী ও চিত্রনাট্যবিহীন অনুষ্ঠানের পুরস্কার পেয়েছে প্রাইম ভিডিওর ‘দ্য ট্রেইটরস’।