নিজস্ব প্রতিবেদক দিনাজপুর
দুই দিনের ব্যবধানে যান্ত্রিক ত্রুটিতে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরোপুরি থেমে গেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন।
কেন্দ্রটির ২ নম্বর ইউনিটও প্রায় ছয় বছর ধরে বন্ধ থাকায় বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে এক ইউনিট বিদ্যুৎও সরবরাহ করতে পারছে না ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই কেন্দ্রটি।
মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) ভোর ৫টা ৫ মিনিটে সাবস্টেশনের একটি যন্ত্র নষ্ট হয়ে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩ নম্বর ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়।
এর আগের দিন সোমবার (০৫ অক্টোবর) ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয় ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১ নম্বর ইউনিট।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, সোমবার সকাল ৬টা ২০ মিনিটে ১ নম্বর ইউনিটটি বিকল হওয়ার পর সেটি সচল করার কাজ চলছিল।
এর মধ্যেই মঙ্গলবার সকালে ৩ নম্বর ইউনিটের সাবস্টেশনের একটি ইক্যুইপমেন্ট নষ্ট হয়ে যায়।
এতে কেন্দ্রটির বাকি উৎপাদনও বন্ধ হয়ে যায়। তিনি জানান, বিকল দুটি ইউনিট মেরামতের কাজ শুরু করেছেন চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনালের প্রকৌশলীরা।
দ্রুত মেরামত শেষে ইউনিট দুটি চালুর চেষ্টা চলছে। কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানায়, ৩ নম্বর ইউনিটটি সচল থাকলে সেখান থেকে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে ১৬০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো।
আর ১ নম্বর ইউনিট থেকে সরবরাহ করা হতো ৫০ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটির ২ নম্বর ইউনিটের উৎপাদন অবশ্য দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ।
১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার এ ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে অচল রয়েছে।
ফলে ১ ও ৩ নম্বর ইউনিটের আকস্মিক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে কোনো বিদ্যুৎই যোগ হচ্ছে না।