নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই আন্দোলনের সময় তৎকালীন সরকারের নির্দেশে ১৬ জুলাই দেশের ৫৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১ হাজার ১৫৩টি সাইটে থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল ৫৫টি সরকারি ও ৪টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।
ট্রাইব্যুনালে কল রেকর্ড উপস্থাপন:
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মামলায় তৎকালীন সময়ের কল রেকর্ড উপস্থাপন করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজি এমএইচ তামিম।
রোববার (০৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় এসব কথা বলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম।
তিনি জানান, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ইন্টারনেটের গতি ধীর করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
সেই নির্দেশনা অনুমোদন করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তা কার্যকর করেছিলেন তৎকালীন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ-ছাত্রলীগের সাত নেতার বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তৃতীয় দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
এ বিষয়ে পরবর্তী যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য সোমবার দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।
ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
‘ইন্টারনেটটা একটু স্লো করে দাও’:
যুক্তিতর্কের শুরুতেই ট্রাইব্যুনালে ওবায়দুল কাদের ও জুনাইদ আহমেদ পলকের একটি কথোপকথন বাজিয়ে শোনানো হয়।
সেখানে ওবায়দুল কাদেরকে বলতে শোনা যায়, ‘ইন্টারনেটটা একটু স্লো করে দাও।’
জবাবে পলক বলেন, ‘একটু নেত্রীর পারমিশনটা নিয়ে নিই?
তখন ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নিয়ে নাও।
পলক বলেন, ‘বলা আছে তো যে উনি না বললে...।
এরপর শেখ হাসিনাকে জিজ্ঞাসা করেই ইন্টারনেট ধীর করার কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।
ওবায়দুল কাদের ও পলকের ফোনে কথোপকথন শুধু আলাপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বলে ট্রাইব্যুনালে উল্লেখ করেন প্রসিকিউটর গাজী তামীম।
বিটিআরসির নথিতে যা রয়েছে:
প্রসিকিউটর বলেন, তারা ডকুমেন্টারি এভিডেন্স (প্রামাণ্য নথি) দিয়ে বিষয়টি প্রমাণ করেছেন।
বিটিআরসির ওই নথিতে উল্লেখ আছে, ‘ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, জুনাইদ আহ্মেদ পলক, এর মৌখিক নির্দেশনায় বিটিআরসি হতে ইন্টারনেট সার্ভিস বন্ধ/সীমিতকরণসংক্রান্ত কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।
ইন্টারনেট সার্ভিস বন্ধ/সীমিতকরণের পদক্ষেপসমূহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে কার্যকর করা হয় মর্মে বিটিআরসিকে প্রতিমন্ত্রী অবহিত করেন।’
১৬ জুলাই ১১৫৩ সাইটে নেটওয়ার্ক বন্ধ:
বিটিআরসির ওই নথিতে গৃহীত পদক্ষেপের তালিকায় বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা ৩৯ মিনিটে দেশের ৫৫টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ৪টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে—মোট ৫৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে—১ হাজার ১৫৩টি সাইটে থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সার্বিক বিষয় বিবেচনায় উল্লিখিত নেটওয়ার্ক বন্ধের কার্যক্রমের ভূতাপেক্ষ অনুমোদনের লক্ষ্যে নথি উপস্থাপন করা হয়।
সেখানে বিটিআরসির মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সবার সই ছিল।
নানক-নাছিরের ফোনালাপও উপস্থাপন:
এদিন যুক্তিতর্কের আরেক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের ফোনালাপও ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন।