ঢাকা, বাংলাদেশ শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ আজকের পত্রিকা ই-পেপার আর্কাইভ কনভার্টার ফটোগ্যালারি
Amaderjagaran || Daily Newspaper In Bangladesh

শিরোনাম:

রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আশাবাদী...অর্থমন্ত্রী একাডেমিক স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রেখে গবেষণায় অর্থায়ন বৃদ্ধির আশ্বাস ইউজিসি...চেয়ারম্যান জাতীয় পরিবেশ পদক পেলেন ৩ ব্যক্তি ৩ প্রতিষ্ঠানে পুরস্কার প্রদান করেন...তারেক রহমান বিশ্বকাপের রেফারি ঠিক করা হয় যেভাবে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য...স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রবৃদ্ধি কিছুটা শ্লথ হলেও স্থিতিস্থাপকতা বজায় রেখেছে...এডিবি প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনে বগুড়ার উন্নয়ন, তুরস্কের সহায়তায় হবে ড্রোন কারখানা...মীর শাহে আলম চট্টগ্রাম অবৈধভাবে পাহাড় কেটে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি স্থাপন না করার আহ্বান...ভূমি প্রতিমন্ত্রীর তিনটি নতুন উপজেলা গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি আর্জেন্টাইন রেফারিরা দায়িত্বে,অস্বস্তিতে এমবাপ্পে..?
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

বিশ্বকাপের রেফারি ঠিক করা হয় যেভাবে

আ জা আন্তর্জাতিক ডেক্স

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই,২০২৬, ০৬:৫১ পিএম
বিশ্বকাপের রেফারি ঠিক করা হয় যেভাবে

বিশ্বকাপে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন রেফারিং। শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের রেফারি ও ভিএআর দলের কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আনুষ্ঠানিক আপত্তি তুলেছে মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের ম্যাচ পরিচালনার তদন্ত চাওয়ার পাশাপাশি তাকে টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে দায়িত্ব না দেওয়ারও আবেদন করেছে তারা।

অন্যদিকে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স–মরক্কো ম্যাচে রেফারিং দলের সবাই আর্জেন্টিনার হওয়ায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—বিশ্বকাপে কোন ম্যাচে কোন রেফারিকে কীভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়?

সিদ্ধান্তটা কে নেয়? আর কী কী বিষয় বিবেচনায় রাখা হয়? তিন বছরের বাছাইপ্রক্রিয়া।

বিশ্বকাপের জন্য রেফারি নির্বাচন শুরু হয় টুর্নামেন্টের অনেক আগে থেকেই। ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ফিফা মোট ৫২ জন রেফারি, ৮৮ জন সহকারী রেফারি ও ৩০ জন ভিডিও ম্যাচ অফিশিয়াল (ভিএমও) নির্বাচন করেছে। ৬টি কনফেডারেশন ও ৫০টি সদস্যদেশের এসব কর্মকর্তাকে নিয়ে গঠন করা দলটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফিফা টিম ওয়ান’।

গত ৯ এপ্রিল তালিকা প্রকাশের সময় ফিফা জানায়, তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা বিস্তৃত মূল্যায়ন ও নির্বাচনপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তাদের বেছে নেওয়া হয়েছে। 

আর্জেন্টিনার জয় যেন দিনের আলোয় ডাকাতি’,—এমন বক্তব্য দেননি মরিনিয়ো ‘আর্জেন্টিনার জয় যেন দিনের আলোয় ডাকাতি’,—এমন বক্তব্য দেননি মরিনিয়ো ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কলিনার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচিত রেফারিরা এই সময়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মধ্যে ছিলেন।

বিভিন্ন সেমিনার, ফিফা টুর্নামেন্ট, আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় তাদের পারফরম্যান্স ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

ফিফার রেফারিং পরিচালক মাসিমো বুসাক্কা জানান, ২০২২ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরপরই পরবর্তী আসরের রেফারি বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়। শুধু রেফারিং প্রশিক্ষক নন, ফিটনেস কোচ, চিকিৎসক ও ফিজিওথেরাপিস্টরাও এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার অংশ ছিলেন।

অর্থাৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে শুধু রেফারিং দক্ষতা নয়, শারীরিক সক্ষমতা ও ধারাবাহিকতার ভিত্তিতেও।

কোন ম্যাচে কে, সিদ্ধান্ত হয় কীভাবে:

বিশ্বকাপের চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকলেই যে একজন রেফারি সব ম্যাচ পরিচালনা করবেন, এমন নয়। প্রতিটি ম্যাচের আগে আলাদাভাবে রেফারিং দল নির্ধারণ করে ফিফার রেফারিং কমিটি।

সিদ্ধান্তের সময় কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখা হয়।

একই দেশের রেফারি না রাখা:

সবচেয়ে পরিচিত নিয়মটি হলো কোনো দেশের রেফারিকে সাধারণত সেই দেশের ম্যাচে দায়িত্ব দেওয়া হয় না।

উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য স্বার্থসংঘাত এড়ানো। যেমন ফ্রান্স যদি সেমিফাইনাল বা ফাইনালে ওঠে, তাহলে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের আর সেই ম্যাচে দায়িত্ব পাবেন না।

রাজনৈতিক বা ঐতিহাসিক সংবেদনশীলতা বিবেচনা:

শুধু নিজ দেশের ম্যাচই নয়, রাজনৈতিক বা ঐতিহাসিক কারণে সংবেদনশীল সম্পর্ক রয়েছে, এমন দেশগুলোর ম্যাচেও সংশ্লিষ্ট দেশের রেফারিদের সাধারণত রাখা হয় না। এর সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ ২০২২ বিশ্বকাপ।

১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই আর্জেন্টিনার ম্যাচে ইংলিশ রেফারি এবং ইংল্যান্ডের ম্যাচে আর্জেন্টাইন রেফারি নিয়োগ এড়িয়ে চলে ফিফা।

সেবার ইংলিশ রেফারি অ্যান্টনি টেইলরকে আর্জেন্টিনা–ফ্রান্স ফাইনালের জন্য বিবেচনা করা হয়নি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি পরিচালনা করেন পোল্যান্ডের সিমোন মার্সিনিয়াক।

এবারও ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করছেন অ্যান্টনি টেইলর ও মাইকেল অলিভার। তাই ইংল্যান্ড বা আর্জেন্টিনার ম্যাচে তাদের দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

পারফরম্যান্সই সবচেয়ে বড় বিবেচনা:

নকআউট পর্ব যত এগোয়, ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব তত বেশি দেওয়া হয় ধারাবাহিকভাবে ভালো করা ও অভিজ্ঞ রেফারিদের।

প্রতিটি ম্যাচের পর রেফারিদের পারফরম্যান্স নিয়ে বিশদ মূল্যায়ন করা হয়। সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ভিএআরের সঙ্গে সমন্বয়, ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা, খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগ, এমনকি শারীরিক সক্ষমতাও সেই মূল্যায়নের অংশ।

পরবর্তী ম্যাচের নিয়োগে এসব প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফিফা তাই শুধু আগের সুনাম নয়, চলতি টুর্নামেন্টে একজন রেফারি কেমন পারফর্ম করছেন, সেটিও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে।

এ কারণেই গ্রুপ পর্বে দায়িত্ব পাওয়া কোনো রেফারি পরে আর ম্যাচ না–ও পেতে পারেন, আবার কেউ ধারাবাহিক ভালো করলে সেমিফাইনাল বা ফাইনালের মতো বড় ম্যাচও পরিচালনার সুযোগ পেয়ে যান। সূত্র : যুগান্তর। 

সম্পর্কিত

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)