Amaderjagaran || Daily Newspaper In Bangladesh

শিরোনাম:

নিখোঁজের একদিন পর ময়লার স্তূপে মরাদেহ, যৌথ অভিযানে কুত্তা সেলিম ও রমজান আলী গ্রেপ্তার চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন,সভাপতি শিবা শানু,সম্পাদক জয় চৌধুরী ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১০ টি অঞ্চলে একযোগে ক্লিলিং ডে অনুষ্ঠিত হয়, জুলাই বিপ্লবের অর্জন কোনো একক ব্যক্তি বা দলের নয়...প্রধানমন্ত্রী শেষ ষোলোর মহারণের আগেই ফরাসি শিবিরে দুঃসংবাদ মুগ্ধ হয়ে ছোট দলটার পক্ষে চলে গেলাম...আনিস আলমগীর শেষ বাঁশির পর যে আলিঙ্গনে শেষ হল এক যুগ,মদ্রিচকে ‘কিংবদন্তি’বলেই বিদায় জানালেন রোনালদো ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় পার্সেল পৌঁছাবে ডাক বিভাগের স্পিড পোস্টে বিশ্বকাপের মাঝেই ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত ফিলিস্তিনি গোলরক্ষক জাপান ও ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্প
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)
বাংলায় বাঙালি

বাঙালি জাতির শীর্ষ নেতারা তাদের বিহারী বলা হয় কেন...?

আ জা ডেক্স

প্রকাশ : সোমবার, ৮ ডিসেম্বর,২০২৫, ০৭:১৯ এ এম
বাঙালি জাতির শীর্ষ নেতারা তাদের বিহারী বলা হয় কেন...?

‘আপনি জানেন কি? বাঙালির জাতীয় নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী একজন বিহারি? কাজী নজরুল ইসলাম বিহারি, খাজা নাজিমুদ্দিন বিহারি, শেরে বাংলা একে ফজলুল হাফ বিহারি।’

এই জাতীয় একটা লেখা ফেসবুকে ঘুরাঘুরি করছে। কিন্তু, তার বিন্দুমাত্র সত্যতা নাই। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কি বিহারি ছিলেন? উত্তর হলো, না। একদম না। তিনি জন্মেছেন মেদিনীপুরে।

তাঁর পরিবার ছিল বাঙালি মুসলিম, বহু প্রজন্ম ধরে বাংলায় বসবাসকারী। ছিলেন, বাঙালি রাজনীতির শীর্ষ নেতা, বাংলার মানুষের অধিকার নিয়ে লড়েছেন।

‘বিহারি’ পরিচয় তাকে দেওয়া হয় পাকিস্তান আমলের রাজনৈতিক ঘৃণা ও বিভ্রান্তি থেকে। কাজী নজরুল ইসলাম কি বিহারি? হাহা! এটা সবচেয়ে হাস্যকর দাবি। তাঁর জন্ম চুরুলিয়া, বর্ধমানে।

যা বর্তমানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সবকিছুতেই তিনি ছিলেন বাঙালি। নজরুল বিহারি বলা মানে ইতিহাস না জেনে কথা বলা। খাজা নাজিমুদ্দিন বিহারি? এটারও উত্তর হলো, না।

তার পূর্বপুরুষ কাশ্মীরি। আর, তাঁর জন্ম ঢাকায়। শুধু তার না, তারও একশো বছর আগে থেকেই তার পূর্বপুরুষ ঢাকায় থাকেন। তার পরিবার ছিল ঢাকার নবাব পরিবার, শতাব্দীকাল ধরে বাঙলায় প্রভাবশালী।

তার পরিবার উর্দুভাষী হলেও, কার্যত বাঙালি সমাজের অংশ। শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক বিহারি? একেবারে ডাহা মিথ্যা। তাঁর জন্ম বরিশালের চাখারে। এই অঞ্চলের তো বটেই, তার রাজনীতিও ছিল গ্রামবাংলার কৃষক শ্রমিকদের নিয়ে। এখন তাহলে দুইটা প্রশ্ন।

১. তাহলে তাদের সবাই ‘বিহারি’ বলা হচ্ছে কেন? এর উত্তর হলো, ১৯৭১ সালের পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক বিদ্বেষ থেকে, ‘বিহারি’ শব্দটাকে গালি বানানোর প্রবণতা। ইতিহাস না পড়ে ফেসবুক বা হোয়্যাটসএপ ইউনিভার্সিটি থেকে লব্ধকৃত জ্ঞান। এই কারণেই এই নেতাদের বিহারি বানিয়ে ফেলার একটা নতুন সংযোজন দেখতে পেলাম। এই দাবিগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রাজনৈতিক অপপ্রচার।

২. 'বিহারি' কি একটা গালি? আর, তারা বিহারি হলে কি কোনও সমস্যা হতো? ক. বিহারি কোনও গালি না। একটি স্থানের নামে একটি জাতিগোষ্ঠীর নাম। ফলে, তা কোনও গালি হতে পারে না।

বাংলাদেশ-পাকিস্তান যুদ্ধ পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই শব্দটিকে একটি গালিতে পরিণত করার প্রবণতা দেখা গিয়েছিলো, যা এখনও চলমান। খ. তারা বিহারি হলে কোনও সমস্যা হওয়ার কথা না।

কারও জাতিগত পরিচয় 'সমস্যাজনক' কোনও বিষয় না। আরেকটা কথা, যারা এসব ন্যারেটিভ বাজারে ছাড়েন, আপনারা কি মনে করেন বিহারীদেরকে একটু উচ্চমার্গের দর্শন করানো গেলো? তাদেরকে সহায়তা করা গেলো? না। বরং তাদেরকেও লজ্জায় ফেলে দেন আপনারা।লেখক : রিজওয়ান শেখ। 

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)