এস এম মিজান ও নূরুল আজিজ চৌধুরী
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আইনগত বাধা নেই: অ্যাটর্নি জেনারেল।
প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির মির্জা ফখরুল ও ১১-দলীয় জোটের অলি আহমদ। ভোটদান ও গণনা সরাসরি টেলিভিশনে সম্প্রচার হবে নতুন।
রাষ্ট্রপতির শপথ ২১ আগস্ট শুক্রবার সন্ধ্যায়:
চিফ হুইপ ভোটগ্রহণকালে কোনো প্রচারণা নয়, ফলাফল তাৎক্ষণিক : সিইসি।
কান্নাজড়িত বিদায়, ভোট চাইলেন মির্জা ফখরুল দীর্ঘ ৩৫ বছর পর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আজ।
সংসদ সদস্যদের (এমপি) ভোটে নির্বাচিত হবেন সংসদীয় শাসনব্যবস্থার পরবর্তী রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিন্দুমাত্র আইনগত বাধার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির পক্ষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াত সমর্থিত ১১-দলীয় জোটের পক্ষে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এর আগে প্রতিটি নির্বাচনে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতেন। নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান আগামীকাল শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে আয়োজন করা হবে।
আজ ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে এই ভোটগ্রহণ হবে।
চট্টগ্রাম-৪ আসনটি শূন্য থাকায় ভোট দেবেন জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্য।
ভোটগ্রহণ শেষে সেখানেই ভোট গণনা করা হবে। পরে ফলাফল ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
ভোটদান ও ভোট গণনা সরাসরি টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আইনগত বাধা নেই:
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিন্দুমাত্র আইনগত বাধার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রিট খারিজের পর গতকাল অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
এর আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে গত মঙ্গলবার ও বুধবার দুটি রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সবশেষ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের ভোটার হওয়ার নির্দেশনা চেয়ে করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
গত বুধবার বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিট আবেদন দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাইফুল আলম ফুয়াদ।
যিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৫ আসন থেকে প্রার্থী ছিলেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
এর আগে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দের করা রিট খারিজ করে আদেশ দেন।
গত বৃহস্পতিবার রিটটি করেন আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ। রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী এবং আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ওই দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হবে।
তবে এ কারণে পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে তিনি অযোগ্য হবেন না। রিটকারী আইনজীবী বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন না।
এতে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ব্যাহত হচ্ছে।
প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির মির্জা ফখরুল ও ১১-দলীয় জোটের অলি আহমদ:
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্েযর প্রার্থী অলি আহমদ। বৃহস্পতিবার এই দুজনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
গত মঙ্গলবার বিকেল চারটা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল।
নির্ধারিত সময় শেষে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, দুজন প্রার্থীর কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি।
এ সময় তিনি ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়ার বিষয় তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপতি পদে সর্বশেষ ভোট হয়েছিল ১৯৯১ সালে।
এরপর মাঝে সাতজন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়, ক্ষমতাসীন দলের একক প্রার্থী হিসেবে।
বিরোধী দল কোনো প্রার্থী দেয়নি। ফলে এবার ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণ হতে যাচ্ছে।
এই নির্বাচনে ভোটার হচ্ছেন সংসদ সদস্যরা। বর্তমান সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। দলটির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় অনেকটাই নিশ্চিত। অন্যদিকে জামায়াত জোটের সংসদ সদস্য ৯০ জন।
নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ শুক্রবার সন্ধ্যায়:
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতির শপথ আগামীকাল শুক্রবার (২১ আগস্ট) বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল বিকেলে সংসদ সচিবালয়ে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।
চিফ হুইপ বলেন, সব সংসদ সদস্যের কাছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্য ভোট চাওয়া হয়েছে।
আমরা গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চাই। গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
ভোটগ্রহণকালে কোনো প্রচারণা নয়, ফলাফল তাৎক্ষণিক:
এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা চালানো যাবে না। ভোটগ্রহণ শেষে সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষেই ভোট গণনা করে তাৎক্ষণিক ফল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
গতকাল নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিইসি এ কথা জানান। এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট হবে।
ভোটের পরে আমরা সেখানে তাৎক্ষণিক গণনা শুরু করব। গণনার পরে নির্বাচনি কর্তা হিসেবে আমি যে ফল ঘোষণা করব, সেটাই আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত।
ভোটের পরে আমরা ওখানে ইন্সট্যান্টলি (তাৎক্ষণিক) গোনা শুরু করব। গোনার পরে রেজাল্ট যেটা আমি অ্যানাউন্স করব অ্যাজ নির্বাচনি কর্তা, দ্যাট ইজ ফাইনাল অ্যাজ পার ল।
সিইসি জানান, ভোট গণনা শেষে সেখানেই (সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে) ফল ঘোষণা করা হবে। এরপর নির্বাচন ভবনে ফিরে ওই দিনই গেজেট প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের।
এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে।
এর মধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে একটি এবং ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়।
বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। সিইসি জানান, ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়।
এ সময় প্রস্তাবক ও সমর্থকদের স্বাক্ষর যাচাইয়ে জাতীয় সংসদ সচিবালয় নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করে।
এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যরা যে রেজিস্ট্রারে স্বাক্ষর করেছিলেন, জাতীয় সংসদ সচিবালয় সেই রেজিস্ট্রার নিয়ে আসে।
এর সঙ্গে মিলিয়ে প্রস্তাবক ও সমর্থকদের স্বাক্ষর যাচাই করা হয়। আমরা তিনটা মনোনয়নই বৈধ পেয়েছি।
১১ দলীয় ঐক্যের দুটোই বৈধ এবং সরকারি দল বর্তমান বিএনপির মনোনয়নটাও বৈধ।
তবে একই প্রার্থীর পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র জমা পড়ায় একটি মনোনয়নপত্রকে অপ্রয়োজনীয় হিসেবে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার। ফলে নির্বাচনে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোট হবে।
মনোনয়ন প্রত্যাহারের বিষয়ে সিইসি বলেন, নির্ধারিত সময়ে কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ‘হাই প্রোফাইল’ উল্লেখ করে এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, রাষ্ট্রপতি (ভারপ্রাপ্ত), প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধী দলীয় নেতা, সব সংসদ সদস্য ও হুইপরা এ নির্বাচনে ভোটার হওয়ায় এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের নির্বাচন।
সিইসি আরও জানান, চট্টগ্রাম-৪ আসন শূন্য থাকায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩৪৯ জন।
স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করেই ভোটের তারিখ নির্ধারণ ও তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে।
কান্নাজড়িত বিদায়, ভোট চাইলেন মির্জা ফখরুল:
বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় বিদায়ী বক্তব্য দিতে গিয়ে বারবার কেঁদেছেন দলের সদ্যসাবেক মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে নেতাকর্মীদের কাছে দোয়া চাওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তার বক্তব্যে সভাকক্ষে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারি দলের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দুপুর ২টা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক চলে। সভায় দলীয় সংসদ সদস্যদের মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
একই সঙ্গে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় ঐক্য অটুট রাখা এবং সংসদ সদস্যদের সঙ্গে তৃণমূলের দূরত্ব যাতে তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি। সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।
বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের কথা তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল।
দায়িত্ব পালনের সময়ে কোনো ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকলে কিংবা অজান্তে কারও মনে আঘাত দিয়ে থাকলে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী বলেও জানান। তিনি বলেন, দল তাকে যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে, জীবন দিয়ে হলেও তিনি সেই সম্মান রক্ষা করবেন।
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করবেন না। বঙ্গভবনে যাওয়ার পর সহকর্মীদের মিস করবেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল সবার কাছে দোয়া চান।
একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ নির্বাচনকে সংশ্লিষ্টরা ঐতিহাসিক বলে চিহ্নিত করেছেন।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকায় কোনো সংসদ সদস্য তার দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিতে পারবেন না।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সংসদের মূল অধিবেশন কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এতে ৩৪৯ জন এমপি ভোট দিতে পারবেন।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম-৪ আসনে নির্বাচিত ঘোষিত বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা আদালতের রায়ে বাতিল হওয়ায় তিনি শপথ নিতে পারেননি।
ফলে আসনটি শূন্য রয়েছে। অন্যদিকে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত জামায়াত দলীয় এমপি গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়টি (দল থেকে বহিষ্কৃত) ঝুলে থাকায় তিনি ভোট দিতে আসবেন কি না তা জানা নেই সংসদ সচিবালয়ের।
ভোটদান ও ভোট গণনা সরাসরি টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হবে।
প্রাথমিক সমীকরণে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে ২৪৭ এবং জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদের পক্ষে ৯০ জন এমপি রয়েছেন।
দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরের বাইরে থাকা ১২ সদস্যের মধ্যে তিনজন বিএনপির মিত্র গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি)।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সদস্য একজন। বাকি আটজন স্বতন্ত্র। তাদের প্রায় সবাই একসময় বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন।
এ সমীকরণে মির্জা ফখরুলের জয় নিশ্চিত হলেও বাকি ১২টি ভোট রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকরা জানান, অলি আহমদ স্বতন্ত্র কিংবা ইসলামী আন্দোলনের ভোট টানতে পারলে বিরোধী জোট সেটিকে রাজনৈতিক অর্জন হিসেবে তুলে ধরতে পারবে।
অন্যদিকে মির্জা ফখরুল বিএনপির বাইরের ভোট পেলে ক্ষমতাসীন দল তাঁর প্রতি বৃহত্তর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার বার্তা দিতে পারবে।
এদিকে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে সংসদ সচিবালয়কে সাজানো হয়েছে অন্যভাবে।
ধোয়া-মোছার পাশাপাশি সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন স্থানে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও শেষ।
যে প্রক্রিয়ায় হবে ভোটগ্রহণ:
সংশ্লিষ্টরা জানান, ভোট গ্রহণের সময় এমপিরা যার যার নির্ধারিত আসনেই থাকবেন। নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহায়করা এমপিদের আসনে গিয়ে ব্যালট পেপার সরবরাহ করবেন।
প্রতিটি ব্যালট পেপারের দুটি অংশ থাকবে। একটি ‘মুড়ি’ (কাউন্টারফয়েল) অংশ এবং অন্যটি ‘মূল ব্যালট পেপার’।
মুড়ি অংশে ব্যালটের ক্রমিক নম্বর, ভোটারের নাম, সংসদীয় বিভাগ নম্বর থাকবে এবং সেখানে ভোটারের স্বাক্ষর বা টিপসই নেওয়া হবে।
মূল ব্যালট পেপারের ডানপাশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম ছাপা থাকবে।
ব্যালটের নির্ধারিত স্থানে ভোটার (সংসদ সদস্য) তাঁর পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে নিজের পূর্ণ নাম লিখবেন এবং স্বাক্ষর করবেন।
সংসদ কক্ষের ভিতরে সংসদ সদস্যদের সুবিধার্থে তিনটি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স রাখা হবে।
ভোট দেওয়ার পর এমপিরা যেকোনো একটি বক্সে তাদের ব্যালট পেপার ফেলবেন।
বিকাল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই সংসদ কক্ষের ভিতরেই ব্যালট বাক্স খুলে ভোট গণনা শুরু হবে। প্রাথমিক ধাপে ৪ বা ৫ সদস্যের একটি দল ব্যালট পেপারগুলো বাছাই ও গণনা করবেন।
নির্বাচনি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বরত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বৈধ ও অবৈধ ভোটের সংখ্যা এবং প্রার্থীরা কে কত ভোট পেয়েছেন তা সংসদেই তাৎক্ষণিক ঘোষণা করবেন।
পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।
অবমুক্ত নিয়ম বা ওপেন ভোটিং পদ্ধতির কারণে সংসদ সদস্যরা কাকে ভোট দিচ্ছেন তা ব্যালটের লেখার মাধ্যমেই স্পষ্ট থাকবে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন।
সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। পরে ৬ আগস্ট তফসিল ঘোষণা করে ইসি।
নির্বাচনে বিএনপি ও সমমনাদের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে সংসদ সদস্যরাই ভোট দেবেন।
চট্টগ্রাম-৪ আসন শূন্য থাকায় মোট ভোটার ৩৪৯ জন। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই।
কেউ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিলে তাঁর সংসদ সদস্যপদ শূন্য হবে।
ফলে ক্ষমতাসীন বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলামের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া নিশ্চিত।
তবু দুজন প্রার্থী থাকায় তফসিল অনুযায়ী আজ ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণ করা হবে। ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
ওই সময়ে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন বদরুল হায়দার চৌধুরী।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বদরুল হায়দার চৌধুরীকে (৯২ ভোট) পরাজিত করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন আব্দুর রহমান বিশ্বাস। তিনি পেয়েছিলেন ১৭২ ভোট।