সাইফুল আলম সরকার, ঢাকা:
বিশ্ব স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসাসেবা গ্রহণে মানুষকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর ২০২৬ সকালে গণস্বাস্থ্য হোমিও’র উদ্যাগে সচেতনতামূলক র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
র্যালিটি বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইট থেকে শুরু হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এসে সমাপ্তি করা হয়।
সমাবেশে গণস্বাস্থ্য হোমিও’র চেয়ারম্যান বিশিষ্ট ক্যান্সার চিকিৎসক ডা. এস এম সরওয়ার এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন গণস্বাস্থ্য হোমিও’ও প্রধান পরামর্শদাতা প্রফেসর ডাঃ কর্ণেল (অবঃ) মোঃ শহিদুল্লাহ, বাংলাদেশ জনতা পার্টির প্রেসিডেন্ট মিঠুন চৌধুরী, বাংলাদেশ ইসলামী সমন্বয় পরিষদের মহাসচিব কথাসাহিত্যিক ইঞ্জিনিয়ার বিএম এরশাদ, ইসলামী সমন্বয় পরিষদের সহ-সভাপতি কবি সৈয়দ ইসমাইল হোসেন জনি, এস টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাকিব সোলারী,
গণস্বাস্থ্য হোমিও’র ডাঃ এমইউ আরিফ, ডাঃ আরিফুল ইসলাম, ডাঃ মিথিলা, নাজমা ইসলাম কলি, ইসলামী ছাত্র সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জসিম উদ্দিন প্রমুখ। সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ডা. এস এম সরওয়ার স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে বলেন, মা-বোনদের এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে।
কোনো সমস্যা দেখা দিলে লজ্জা না করে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা গ্রহণ করলে ভালো হওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, চিকিৎসার নামে প্রতিবছর দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে।
এই বিপুল পরিমাণ অর্থপাচার রোধে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার গুরুত্ব অনুধাবন করতে হবে। কারণ, উপযুক্ত চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথিতেও ক্যান্সার নিরাময় হয় বলে তিনি বলেন।
ডা. এস এম সরওয়ার বলেন, “হোমিওপ্যাথিক ও অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসার মধ্যে পার্থক্য হলো—হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা রোগের চিকিৎসা করে, বিধায় রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। অন্যদিকে, অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা রোগীর চিকিৎসা করে, বিধায় রোগ থেকে যায়।
তিনি আরও বলেন, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা খাতকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন ও প্রাধান্য দিলে দেশ থেকে চিকিৎসা বাবদ অর্থপাচার বহুলাংশে রোধ করা সম্ভব।
এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সরকারি উদ্যোগে হোমিওপ্যাথি বিভাগে একটি আধুনিক গবেষণা ইনস্টিটিউট ও ল্যাবরেটরি স্থাপন করা জরুরি।
এর মাধ্যমে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার আধুনিকায়ন ঘটবে এবং মানসম্মত ও দক্ষ চিকিৎসক তৈরি করে মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, মানুষ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাকে অবহেলা করে।
কিন্তু এই চিকিৎসার মাধ্যমে সার্জারি ব্যতীত সকল রোগের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মাধ্যমেই স্বল্প খরচে সকল রোগের সমাধান হয়।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার প্রতি গুরুত্বারোপ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব বিষয়ে সরকারকে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
তাই বর্তমান সরকারের কাছে করজোড়ে দাবি জানাচ্ছি, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাসেবা যেন প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হয় এবং সবার জন্য সুষ্ঠু চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা যায়।
তিনি বলেন, ক্যান্সার, থ্যালাসেমিয়া, এইডস ও কিডনি—এই চারটি জটিল রোগের চিকিৎসা দিয়ে তিনি সফলতা পেয়েছেন বলে তিনি জানান।
সমাবেশে প্রধান পরামর্শদাতা প্রফেসর ডা. কর্নেল (অব.) মোঃ শহিদুল্লাহ বলেন, মা-বোনদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো অসচেতনতা ও লজ্জাবোধ।
সঠিক তথ্যের অভাব এবং প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে অবহেলা করার কারণে অনেকেই শেষ পর্যায়ে এসে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন, যা জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।
তিনি নারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আরও বলেন, “স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ ও নিরাময়ে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। তাই আমি সকল মা-বোনদের বলবো, আপনারা নিজেদের স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন হন।
স্তনে যেকোনো ধরণের পরিবর্তন, গুটি বা অস্বাভাবিক ত্রুটি দেখা দিলে একটুও দ্বিধা না করে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সময়মতো সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে স্তন ক্যান্সার সম্পূর্ণরূপে নিরাময় সম্ভব।”
প্রফেসর ডা. কর্নেল (অব.) মোঃ শহিদুল্লাহ বলেন, “একজন অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসক হয়েও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার প্রতি কেন আমি সমর্থন প্রকাশ করলাম, তা অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে।
আমি দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মাধ্যমে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসায় অনেক রোগের সমাধান খুঁজে পাইনি। এ কারণে আমি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার প্রতি সমর্থন জানিয়েছি।
পাশাপাশি, ডা. এস এম সরওয়ারের ক্যান্সার চিকিৎসাসংক্রান্ত কার্যক্রমকে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরার লক্ষ্যে গণস্বাস্থ্য হোমিওতে এ যোগদান করেছি।”