আ জা আন্তর্জাতিক ডেক্স
ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে।
স্থানীয় সময় রোববার সকাল ৮টায় দেশটির বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোট নেওয়া শুরু হয়।
এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং রক্ষণশীল সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো।
জনমত জরিপে দুই প্রার্থীর মধ্যে সমান সমর্থন দেখা যাওয়ায় নির্বাচনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
৮০ বছর বয়সী লুলা দেশটির ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা। অন্যদিকে, ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর জ্যেষ্ঠ ছেলে এবং তার রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে পরিচিত।
গত ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ভোটে দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়।
ওই নির্বাচনে বৈধ ভোটের ৪৭ শতাংশ পেয়ে এগিয়ে ছিলেন ফ্লাভিও বলসোনারো।
লুলা পেয়েছিলেন ৪৫ শতাংশ ভোট। তবে কোনো প্রার্থীই প্রয়োজনীয় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় দ্বিতীয় দফার নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছে।
নির্বাচনের আগে প্রকাশিত ডেটাফোলহার জনমত জরিপেও দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধানের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
জরিপ অনুযায়ী, বৈধ ভোটের হিসাবে লুলা ও ফ্লাভিও—উভয়ের সমর্থন ছিল ৫০ শতাংশ।
ফলে শেষ পর্যন্ত কে বিজয়ী হবেন, তা নিয়ে ভোটারদের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে ব্রাজিলের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জননিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দীর্ঘদিনের দুর্নীতির অভিযোগ ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
লুলা এর আগে ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
২০২২ সালের নির্বাচনে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোকে পরাজিত করে তিনি আবারও ক্ষমতায় ফেরেন।
ওই নির্বাচনে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল দুই শতাংশেরও কম।
আধুনিক ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ইতিহাসে এটিকে সবচেয়ে কম ব্যবধানের নির্বাচন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এবারের নির্বাচনে জয়ী হলে লুলা চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন। তবে তার এই মেয়াদগুলো ধারাবাহিক নয়।
অন্যদিকে, ২০২২ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর জইর বলসোনারোর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নানা আইনি জটিলতায় পড়ে। সামরিক অভ্যুত্থানের পরিকল্পনাসংক্রান্ত তদন্তের পর তাকে সরকারি পদে থাকার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়।
একই ঘটনায় তাকে ২৭ বছরের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তার ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেন।
তবে জইর বলসোনারোর রাজনৈতিক প্রভাব এখনও উল্লেখযোগ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রথম দফার নির্বাচনে তার স্ত্রী মিশেল বলসোনারো ফেডারেল সিনেটের একটি আসনে জয়লাভ করেন।
এতে দেশটির রাজনীতিতে বলসোনারো পরিবারের প্রভাবের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।
ফ্লাভিও বলসোনারো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হলে ব্রাজিলে ডানপন্থি রাজনীতির পুনরুত্থান ঘটবে।
পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাসহ বৃহত্তর আঞ্চলিক রক্ষণশীল রাজনৈতিক প্রবণতার সঙ্গে ব্রাজিলের সম্পর্ক আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দেশটির ২৬টি অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল ডিস্ট্রিক্টের ১৫ কোটির বেশি নিবন্ধিত ভোটারের ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ভোট দেওয়ার কথা রয়েছে।
স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়। সূত্র: আনাদোলু এজন্সি।