নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে চট্টগ্রামে জাতীয় ঐক্যের মিলনমেলা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, এবারের পূজায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজকর্মী, পেশাজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ লক্ষণীয়।
গত দুই সপ্তাহ ধরে পূজামণ্ডপ ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তিনি অনেক পূজা ও উৎসবে অংশ নিয়েছেন।
প্রায় দুই সপ্তাহ আগে জেএম সেন হলে পূজা কমিটির সদস্যদের নিয়ে একটি অনুষ্ঠানে এসেছিলেন।
তখন থেকেই এখানে উৎসব শুরু হতে দেখেছেন। পূজার এত আগে এমন উৎসবমুখর পরিবেশ তিনি আগে দেখেননি।
তিনি বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজকর্মী, পেশাজীবী ও স্থানীয় বাসিন্দারা উৎসবের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত রয়েছেন।
সবার অংশগ্রহণ ও বিভিন্ন উদ্যোগের প্রতি সমর্থনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে একটি মিলনমেলা ও ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস তৈরি হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এই ঐক্যের পেছনে সমাজ ও রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন কাজ করছে।
সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর দেশের সমাজ ও রাষ্ট্রে পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় হচ্ছে পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশকে এগিয়ে নেওয়া।
তিনি বলেন, কোনো জাতি বা রাষ্ট্র যদি পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে, তাহলে সেটি আধুনিক রাষ্ট্র হয়ে উঠতে পারে না।
অতীতের পরিস্থিতি তুলে ধরে আমীর খসরু বলেন, বিভিন্ন সময়ে মানুষের জীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্য বিপন্ন হয়েছে, জীবনের নিরাপত্তা ছিল না এবং ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগও সীমিত ছিল।
এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্য গড়ে ওঠা সম্ভব নয়। তবে এবারের পূজায় তিনি ভিন্নতা দেখতে পাচ্ছেন।
সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে উৎসবে অংশ নিচ্ছেন। তিনি বলেন, এই ঐক্যের পেছনে মানুষের আস্থা রয়েছে।
বিষয়টি শুধু পূজার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের জন্য সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এ বছর ৪১ লাখ গৃহকর্ত্রীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে।
এখানে ধর্ম বা বর্ণের কোনো বিষয় নেই। হতদরিদ্র মানুষ থেকে শুরু করে যাঁরা এই সহায়তা পাওয়ার যোগ্য, তাঁদের পর্যায়ক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যাঁদের প্রাপ্য, তাঁরা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সহায়তা পাবেন।
বৌদ্ধ সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য সরকারি অনুদানের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব অনুদান কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মের জন্য নয়; বরং প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য আলাদাভাবে দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া মাছ ধরতে না পারার সময়ে জেলেদের জন্য চালের বরাদ্দও এবার বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। জেলেদের অনুদান পেয়ে তাঁদের মুখে হাসি দেখেছেন বলেও জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি অভিন্ন জাতি হিসেবে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সরকারের আট মাসের মধ্যেই সেই উদ্যোগের কিছু দৃষ্টান্ত দেখা গেছে। সামনে আরও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে এবং উন্নয়নের এই ধারা আরও এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন একার পক্ষে সম্ভব নয়।
এ জন্য জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।