ঢাকা, বাংলাদেশ শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ আজকের পত্রিকা ই-পেপার আর্কাইভ কনভার্টার ফটোগ্যালারি
Amaderjagaran || Daily Newspaper In Bangladesh
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)
নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লায়

ভুট্টা ব্যবসার নামে ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ১

নিজস্ব প্রতিবেদক নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর,২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম
আপডেট : শুক্রবার, ২ অক্টোবর,২০২৬, ০৭:০৫ পিএম
ভুট্টা ব্যবসার নামে ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ১

নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লায় ভুট্টা ব্যবসার কথা বলে ১ কোটি ৬৫ লাখ ৮০ হাজার ৬৪৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় মো. মোস্তফা আসাদ নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জ।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পিবিআই নারায়ণগঞ্জ পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তার মো. মোস্তফা আসাদ (২৬৫) চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থানার আন্দুলবাড়িয়া গ্রামের মো. আব্দুল লতিফের ছেলে।

তিনি ‘আসাদ এগ্রোটেক লিমিটেড’-এর মালিক হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করতেন।

পিবিআই জানায়, ফতুল্লা থানায় মামলাটি করা হয়। মামলার বাদীর সঙ্গে আসামি মোস্তফা আসাদ ও তার বাবা মো. আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল।

সেই সুবাদে আসামিরা ভুট্টা সংগ্রহ করে গুদামজাত করে পরে বিক্রির মাধ্যমে বেশি মুনাফা করার প্রস্তাব দেন।

তাদের প্রস্তাবে রাজি হয়ে বাদী আসামিদের একটি গোডাউন ভাড়া নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন।

পিবিআইয়ের তথ্যমতে, এ বিষয়ে ২০২৪ সালের ২৪ মে ‘মৌসুমি ভুট্টা ক্রয় ও সংরক্ষণের গুদাম ভাড়ার চুক্তিপত্র’ নামে একটি চুক্তি করা হয়।

চুক্তি অনুযায়ী বাদী আসামিদের ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাব ‘আসাদ এগ্রোটেক লিমিটেড’-এর অগ্রণী ব্যাংক হিসাবে মোট ৮ কোটি ৮৩ লাখ ৬২ হাজার ৫৩০ টাকা জমা দেন।

এর মধ্যে ১ কোটি ৬৫ লাখ ৮০ হাজার ৬৪৫ টাকা আসামিদের কাছে পাওনা থাকলেও তারা ওই টাকা পরিশোধ না করে একের পর এক সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।

পরে পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য অনুরোধ করা হলে আসামিরা টাকা না দিয়ে বাদীকে ভয়ভীতি দেখানো এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরস্পর যোগসাজশে আসামিরা ১ কোটি ৬৫ লাখ ৮০ হাজার ৬৪৫ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন।

মামলাটি পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত হওয়ায় সংস্থাটি স্বউদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে।

পিবিআই নারায়ণগঞ্জের তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (নিঃ) অপু দে-এর নেতৃত্বে একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানের অংশ হিসেবে গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থানার আন্দুলবাড়িয়া এলাকার ‘আসাদ এগ্রোটেক লিমিটেড’-এর অফিসের সামনে থেকে মোস্তফা আসাদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি তথ্য এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে পুলিশ রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি এবং তার বাবা মামলার অপর আসামি মো. আব্দুল লতিফ বিশ্বাস পরস্পর যোগসাজশে ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বাদীর কাছ থেকে নেওয়া ১ কোটি ৬৫ লাখ ৮০ হাজার ৬৪৫ টাকা পরিশোধ না করে প্রতারণামূলকভাবে আত্মসাতের কথা স্বীকার করেন বলে পিবিআই জানিয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মামলার ঘটনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও দিয়েছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

পিবিআই আরও জানায়, মামলার এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি মো. আব্দুল লতিফ বিশ্বাস একই ধরনের অপরাধে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থানায় একাধিক মামলার আসামি।

মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং পলাতক ওই আসামিকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

পিবিআই নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ বলেন, এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সম্পর্কিত

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)