নিজস্ব প্রতিবেদক
শাপলা চত্বরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ হাজির করা হলে কথা বলার সুযোগ চান সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।
তবে আদালত তাকে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি দেয়নি। পরে কারাগারে নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'আমি বলতে চেয়েছিলাম, আমাকে ফাঁসি দিয়ে দেন।'
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত হয়ে লতিফ সিদ্দিকী ট্রাইব্যুনালের কাছে কিছু বলার অনুমতি চান।
তবে আদালত তাকে সেই সুযোগ দেয়নি। পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনাল তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
শুনানি শেষে কাঠগড়া থেকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় সাংবাদিকরা জানতে চান, আদালতে তিনি কী বলতে চেয়েছিলেন।
জবাবে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, 'আমি বলতে চেয়েছিলাম, আমাকে ফাঁসি দিয়ে দেন।'
এর আগে বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, ২০১৩ সালে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের হত্যা, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় তাকে আটক করা হয়েছে।
পূর্বের নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
প্রসিকিউশনের আবেদনের পর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে পরিচালিত অভিযানের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে প্রসিকিউশন।
অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও হাছান মাহমুদ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক মন্ত্রী শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দীপু মনি এবং মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।
এ ছাড়া সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য ও যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সালাহউদ্দিন মাহমুদ এস এম জাহিদ, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাংবাদিক ফারজানা রূপাও এই মামলার আসামি।