ঢাকা, বাংলাদেশ শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ আজকের পত্রিকা ই-পেপার আর্কাইভ কনভার্টার ফটোগ্যালারি
Amaderjagaran || Daily Newspaper In Bangladesh

শিরোনাম:

তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতি বের করতে পারেননি হাসিনা’ নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁয়ে শিয়ালের কামড়ে নারী-শিশুসহ ১৫ আহত এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম’ নতুন দায়িত্ব পেলেন...স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও ২৩ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র আদালতে কথা বলার অনুমতি না দেয়ায়...লতিফ সিদ্দিকী হজ টিকিটের মূল্য কমে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, আরও সুবিধা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে....পর্যটন প্রতিমন্ত্রী ২০০৯ সাল থেকে ঢাবির সব নিয়োগ পুনঃপর্যালোচনার সিদ্ধান্ত সিন্ডিকেটের হঠাৎ করেই যুদ্ধজাহাজ তৈরিতে তোড়জোড় ভারতের হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’য় বিএনপি ও ছাত্রদলের ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদ
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ

রাজউকের জরিপ, রাজধানীর ৮৬ শতাংশ বাণিজ্যিক ভবনে নেই পার্কিং

এস এম মিজান ও নূরুল আজিজ চৌধুরী

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই,২০২৬, ০৬:১২ এ এম
রাজউকের জরিপ, রাজধানীর ৮৬ শতাংশ বাণিজ্যিক ভবনে নেই পার্কিং

রাজধানীর অধিকাংশ বাণিজ্যিক ভবনে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী পার্কিং সুবিধা নেই। রাজউকের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, পরিদর্শন করা ২ হাজার ৬৩৭টি বাণিজ্যিক ভবনের মধ্যে ৮৬ দশমিক ২৩ শতাংশ ভবনে পার্কিং ব্যবস্থা অনুপস্থিত বা নকশাবহির্ভূতভাবে দখল করা হয়েছে।

মাত্র ১৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ ভবনে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী পার্কিং সুবিধা পাওয়া গেছে। দৈনিক আমাদের জাগরণ এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত বেজমেন্ট ও গ্রাউন্ড ফ্লোরের বড় অংশ দোকান, গুদাম কিংবা বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হয়েছে।

এতে ভবনে আসা মানুষের যানবাহন সড়কের ওপর পার্কিং করতে বাধ্য হচ্ছে, যা রাজধানীর যানজটকে আরও তীব্র করছে।

এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সমন্বয়ে শিগগির রাজধানীজুড়ে বড় পরিসরে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানায়।

যানজট কমাতে বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন জোনে বাণিজ্যিক ভবনগুলোর ওপর বিশেষ পরিদর্শন চালানো হয়।

জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ ভবনের মালিক অনুমোদিত নকশার শর্ত উপেক্ষা করে পার্কিংয়ের স্থান অন্য কাজে ব্যবহার করছেন।

দীর্ঘদিন সতর্ক করার পরও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় এবার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পরিদর্শন কার্যক্রমে গুলশান, বনানী, তেজগাঁও, প্রগতি সরণি, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, পান্থপথ, কাওরান বাজার, পল্টন ও মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় ৪৪টি টিম টানা সাত দিন অভিযান চালায়।

এতে দেখা যায়, ১ হাজার ৬৮টি ভবনের পার্কিং স্থানে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। ২১৬টি ভবনে রয়েছে অস্থায়ী স্থাপনা।

৪৫৮টি ভবনের মালিক অনুমোদিত নকশা প্রদর্শন করতে পারেননি এবং সেখানে পার্কিংও নেই। অন্যদিকে ৫৩২টি ভবনে পার্কিং ব্যবহৃত হচ্ছে এবং ৩৬৩টি ভবনে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী পার্কিং সুবিধা রয়েছে।

রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তালিকা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এখন ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দখলমুক্ত করার কার্যক্রম শুরু হবে। তাদের ভাষ্য, নকশা অনুমোদনের সময় পার্কিং রাখার অঙ্গীকার করলেও পরে অনেক ভবন মালিক সেই স্থান বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করেছেন, যা ইমারত নির্মাণ বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, ‘দীর্ঘদিনের দুর্বল নজরদারির কারণেই পার্কিং স্পেস দখলের প্রবণতা বেড়েছে।

উচ্ছেদের পর যাতে আবারও অবৈধ দখল না হয়, সে জন্য নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে।

একই সঙ্গে আইন লঙ্ঘনকারী ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক জরিমানা ও লাইসেন্স বাতিলের মতো কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’

রাজধানীর যানজট নিরসনে চলতি বছরের মার্চে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় অনুমোদিত পার্কিং স্পেসের অপব্যবহারকে যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

ওই সভায় রাজউককে রাজধানীর ভবন ও বেজমেন্ট পার্কিংয়ের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এর আগে রাজউক চারটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ভবনের পার্কিংয়ে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বেচ্ছায় অপসারণের আহ্বান জানায়।

সময়সীমা শেষ হওয়ার পর মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান শুরু হয়। ঈদুল আজহার আগে ১৬টি বহুতল ভবনের ১৩১টি পার্কিং স্পেস থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

রাজউকের পরিচালক (প্রশাসন) তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, নকশা অনুযায়ী পার্কিং নিশ্চিত করতে আরও প্রায় চার মাস সময় লাগতে পারে।

এই কর্মসূচি শেষ হলে দ্বিতীয় পর্যায়ে রাজধানীর আবাসিক ভবনগুলোর পার্কিং ব্যবস্থাও একইভাবে পরিদর্শন ও প্রয়োজনে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

এ বিষয়ে রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘রাজধানীর যানজট কমাতে পার্কিং স্পেসে পরিচালিত অবৈধ বাণিজ্যিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অনিয়মের সংখ্যা বেশি হওয়ায় পর্যায়ক্রমে সব ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সম্পর্কিত

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)