এস এম মিজান ও রাসেল খান
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তার বিচার নিশ্চিত করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
একই সঙ্গে ‘গণহত্যাকারীদের’ ভারত থেকে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে আয়োজিত এক গণসমাবেশে এসব কথা বলেন আসিফ মাহমুদ।
‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধের’ দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা বর্ডারের থেকে শুনি শেখ হাসিনা আসতে চায়। আওয়ামী লীগের নেতারা সাক্ষাৎকার দিচ্ছে, তারা বাংলাদেশে আসতে চায়।
এই বিষয়ে তো কেউ দ্বিমত করছে না, আমরাও চাই আপনারা আসেন। শহীদ পরিবারের মায়েরা প্রতিদিন আল্লাহর কাছে দোয়া করেন যে, তাদের সন্তানের হত্যার যারা দায়ী তাদের যেন বিচার নিশ্চিত হয়।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলে সেই বিচার নিশ্চিত হওয়ার জন্য সেই বিচার নিশ্চিত করার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘সম্ভাব্য ভারত সফর’ প্রসঙ্গে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘ইদানীং শুনছি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত যাবেন।
স্পষ্টভাবে বলতে চাই, জুলাই গণভুত্থানে গণহত্যার জন্য দায়ী যারা এখনো ভারতের আশ্রয়ে আছে, সাক্ষাৎকার-ব্রিফিং করে যাচ্ছে।
ওসমান হাদির খুনিরা যারা ভারতের হাতে বন্দি অবস্থায় আছে।
তাদেরকে ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী যদি ভারতের মাটিতে পা রাখেন এইটা এই দেশের জনগণের সঙ্গে গাদ্দারি হবে।
তাদেরকে আগে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনেন তাদের ফাঁসির রায় কার্যকর করেন, বিচার নিশ্চিত করেন।
তারপরে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক হতে পারে। ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তাদের সাথে কোন সুসম্পর্ক হতে পারে না।’
ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘আজকে এক নিউজে দেখছিলাম, গরু মহিষ চড়াইতে হলেও ছাত্রদলকে চাঁদা দিতে হয়। ছয় মাস হয় নাই।
কিন্তু ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপির চাঁদাবাজির মাধ্যমে ৫০ লাখ কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়ে গেছে।
চাঁদাবাজি করে তাদের ফ্যামিলি চলতেছে। তাদের পেট চলতেছে। সাধারণ মানুষ জাহান্নামে যাক।’
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন এনসিপির মুখপাত্র।
তিনি বলেন, ‘দেড় বছর ধরে আমাদেরকে প্রতিদিন শুনতে হয়েছে, নির্বাচন হলে নাকি সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।
আরও শুনতে হয়েছে, যাদের পেটে ভাত নাই তারা সংস্কারের কী বুঝবে? তো তারা নাকি ক্ষমতায় আসলে আমাদের পেটে ভাত থাকবে।
তারপরে মানুষজন ভালোভাবে থাকবে। ফ্যামিলি কার্ড, এই কার্ড ওই কার্ড, নানা কার্ড পাওয়া যাবে।
তো তারা ক্ষমতায় আসলো আজকে পাঁচ মাস শেষ ছয় মাস হতে চলল, এখন সংস্কার তো নাই গ্যাস বিদ্যুতও নাই, পেটে ভাতও নাই।’