আনোয়ার হোসেন অপু, ঢাকা
একটি অনলাইন চ্যানেলের চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দেওয়া সুজন আহমেদ ওরফে ‘বেন্ডি’কে ঘিরে তাঁর পেশাগত পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং মামলাসংক্রান্ত বিষয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা সামনে এসেছে।
তাঁর বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হলেও, এসব মামলার প্রকৃত সংখ্যা, বর্তমান অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট মামলা গুলোতে তাঁর আইনগত অবস্থান যাচাই করা হচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথির দাবি অনুযায়ী, শাহজাহানপুর থানায় সুজন আহমেদ ওরফে ‘বেন্ডি’র নামে মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত একটি মামলা রয়েছে।
মামলাটি শাহজাহানপুর থানার মামলা নম্বর-৩২, তারিখ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
তবে মামলাটির সর্বশেষ আইনগত অবস্থান এবং আদালতের বর্তমান কার্যক্রম সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই প্রয়োজন।
এ ছাড়া বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, রাজধানীর একাধিক থানায় সুজনের বিরুদ্ধে আরও মামলা ও জিডি রয়েছে।
এসব তথ্যের সমর্থনে কিছু নথি ও রেকর্ড থাকার কথা জানানো হলেও, প্রতিটি মামলার নম্বর, ধারা, অভিযোগের প্রকৃতি এবং বর্তমান অবস্থান পৃথকভাবে যাচাই করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, দক্ষিণখান থানায় তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা থাকার কথাও বিভিন্ন মহলে প্রচারিত হচ্ছে।
অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে মামলাটি দক্ষিণখান থানার মামলা নম্বর-১৭, তারিখ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে অভিযোগটি আদালতে প্রমাণিত হয়েছে কি না, মামলাটিতে তদন্তের অগ্রগতি কী এবং সুজন আহমেদের আইনগত অবস্থান কী—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার নথি ও আদালতের রেকর্ডের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
তাই অভিযোগটিকে এই পর্যায়ে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সুজন আহমেদ ওরফে ‘বেন্ডি’র শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে।
তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক নথি ছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তির বক্তব্যকে সত্য হিসেবে গ্রহণ করা যাচ্ছে না।
একই সঙ্গে তাঁর হাতে সাংবাদিক পরিচয়পত্র ব্যবহারের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তিনি কোন গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত, তাঁর পদ কী এবং ব্যবহৃত পরিচয়পত্রটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বৈধ অনুমোদনে ইস্যু করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও যাচাইয়ের দাবি রাখে।