এস এম মিজান ও নুরুল আজিজ চৌধুরী
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ডিআরইউ চত্বরে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সংগঠনটির ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ডিআরইউর ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল ১০টায় জাতীয় পতাকা ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়।
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন।
এরপর ডিআরইউ প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিআরইউ’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপ-কমিটির আহ্বায়ক এম এম জসিম এবং কার্যনির্বাহী সদস্য ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপ-কমিটির সদস্য সচিব মাহফুজ সাদি।
রিজভী বলেন, “এই পরিসর ও পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে আজ আমরা একটি মুক্ত পরিবেশ পাচ্ছি। এখানে সবাই থাকবে।
এভাবেই একটি গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে ওঠে।” তিনি আরও বলেন, “সেই প্রত্যয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হচ্ছে গণমাধ্যম। স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, অনেকে মনে করেন রাজনীতিবিদদের কাজ সবচেয়ে কঠিন।
কিন্তু তিনি মনে করেন, সাংবাদিকদের কাজ সবচেয়ে কঠিন। তিনি বলেন, “আপনারা যখন বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করবেন, তখন কোনো সমস্যা হবে না।”
মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করে, তার মধ্যে সাংবাদিকতাকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়। সাংবাদিকদের যে নির্দিষ্ট সীমারেখা রয়েছে, ডিআরইউ তার ভেতর থেকেই কাজ করে।
এ কারণে তিনি ডিআরইউকে পছন্দ করেন বলেও উল্লেখ করেন। সাংবাদিকতার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার ইচ্ছা নেই: তথ্যমন্ত্রী।
দেশের গণতন্ত্রের বর্তমান অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে সংবাদমাধ্যমের বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ।
গণমাধ্যম বা সাংবাদিকতার স্বাধীনতায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করার ইচ্ছা সরকারের নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।তথ্যমন্ত্রী বলেন, “আজকে আমরা যেখানে আছি, সংবাদমাধ্যম আছে বলেই সেখানে আছি।
বাংলাদেশে গণতন্ত্রের যে পর্যায়ে আমরা আছি, তার পেছনে সংবাদমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। দেশের যত অর্জন, তার বড় একটি অংশের কৃতিত্ব সংবাদমাধ্যমের।
” মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সাংবাদিকদের নিয়ে এটাই তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ উল্লেখ করে পার্থ বলেন, “মন্ত্রী হওয়ার পর সাংবাদিকদের নিয়ে এটাই আমার প্রথম ফরমাল অনুষ্ঠান।
এ কারণে আমি সত্যিই আনন্দিত। আপনাদের ধন্যবাদ।” স্বাধীন সাংবাদিকতায় সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে চায় না জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “ইনশাআল্লাহ, আমাদের সময়ে আপনারা ফ্রি মিডিয়া পাবেন।
আমাদের পক্ষ থেকে গণমাধ্যম বা সাংবাদিকতার স্বাধীনতায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করার ইচ্ছা নেই।”সরকার ও গণমাধ্যমকর্মীদের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি।
সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের জন্য কল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্যোগ: তথ্য প্রতিমন্ত্রী অনুষ্ঠানে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও তা বাড়িয়ে ২৫ কোটি টাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের জন্য কল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার এবং মিডিয়া আসেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জুলাই আন্দোলনে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
লেখালেখির পাশাপাশি তারা আন্দোলনেও যুক্ত ছিলেন। তাদের অবদান চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমাদের দল জামায়াতে ইসলামী সাংবাদিকদের কল্যাণে কাজ করছে এবং করবে।
এসময় আরো বক্তব্য রাখেন, রেলপথ প্রতিমন্ত্রী জনাব হাবিবুর রশিদ, মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণে সেক্রেটারি ও সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, এমপি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ আব্দুস সালাম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ও ডিআরইউ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী), ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি শফিক রেহমান, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনার পরিচালক বাছির জামাল, পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, ডিইউজের সভাপতি মো: শহিদুল ইসলাম, ডিআরইউ’র সাবেক সভাপতি ইলিয়াস হোসেন, রফিকুল ইসলাম আজাদ ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান। দুপুরে কেক কাটা ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, পেশাজীবী ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন। বিকেলে দেশবরেণ্য শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ডিআরইউ প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। রাজধানীর বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত রিপোর্টারদের অধিকার আদায়, পেশাগত উন্নয়ন ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৯৫ সালের ২৬ মে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, কল্যাণ, প্রশিক্ষণ, বস্তুনিষ্ঠ ও সুস্থ সাংবাদিকতার বিকাশে সংগঠনটি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে।