নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনে অবৈধভাবে পার্ক করে রাখা বাস সরিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে সড়ক অবরোধ করেছেন পরিবহন শ্রমিকরা।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টার্মিনালের সামনে সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন তারা।
শ্রমিকদের এই অবরোধের ফলে মহাখালী এলাকায় ব্যাপক যানজট তৈরি হয়েছে।
এতে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। অবরোধের প্রভাব শুধু মহাখালীতে সীমাবদ্ধ থাকেনি; আশপাশের সড়কগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে যানজট। বনানী, গুলশান, তেজগাঁও ও সাতরাস্তা এলাকাতেও যানজট পৌঁছে যায়।
এসব সড়কে যানবাহনকে ধীরগতিতে চলাচল করতে দেখা যায়।
দুই পাশ বন্ধ করে শ্রমিকদের অবস্থান:
মহাখালী এলাকায় দায়িত্ব পালন করা পুলিশের সার্জেন্ট বেলাল হোসেন বলেন, ‘মহাখালী টার্মিনালের সামনে দুই পাশ বন্ধ করে রেখেছেন শ্রমিকরা।
এ কারণে পুরো এলাকায় ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়েছে।’ তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি মাহবুবুর রহমান জানান, অবৈধভাবে পার্ক করা বাস সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
একপর্যায়ে তারা সড়ক অবরোধ করেন। শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য পুলিশ চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি।
পূর্বাচলে বাস সরানো নিয়ে ক্ষোভ:
সম্প্রতি মহাখালী এলাকায় অলস অবস্থায় পড়ে থাকা বাসগুলো পূর্বাচলে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে পুলিশ।
এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে বাসমালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
নিজেকে বাসচালক পরিচয় দিয়ে কামরুল হাসান বলেন, ‘টার্মিনালের বাইরে গাড়ি পাইলেই পুলিশ ডাম্পিং করতেছে, রেকার বিল ধরিয়ে দিচ্ছে।’
তার অভিযোগ, পূর্বাচলে যে জায়গায় তাদের বাস রাখার জন্য বলা হচ্ছে, সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই।
কামরুল হাসান বলেন, ‘সেখান থেকে গাড়ির ব্যাটারি পর্যন্ত চোর নিয়ে যাচ্ছে। আমরা এ হয়রানি থেকে মুক্তি চাই।
এসবের সুরাহা না হলে আমরা অবরোধ সরাব না।’
সড়কে আড়াআড়ি বাস রেখে যান চলাচল বন্ধ:
অবরোধের সময় বাসচালকরা কয়েকটি বাস সড়কের ওপর আড়াআড়িভাবে রেখে দেন।
এতে ওই সড়ক দিয়ে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় শ্রমিকদের বিভিন্ন বিষয়ে স্লোগান দিতে শোনা যায়।
পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনারের পদত্যাগ, বাস ডাম্পিং, জরিমানা এবং পুলিশের হয়রানিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তারা স্লোগান দেন।
শ্রমিকদের অবরোধের কারণে মহাখালী থেকে শুরু করে আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতেও যান চলাচলে ধীরগতি তৈরি হয় এবং ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।