শহিদুল ইসলাম চট্টগ্রাম :
চট্টগ্রাম নগরীর ৩২ নম্বর আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মনসা পূজা উপলক্ষে বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনা দ্রুত অপসারণে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক, রাজনীতিবিদ ও সংগঠক মোহাম্মদ আজগর আলী।
তাঁর একক সহযোগিতায় ওয়ার্ডের পাঁচটি পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
মঙ্গলবার ১৯ আগস্ট সকাল ৮টা থেকে হাজারী লেনের স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে পাঁচটি পূজামণ্ডপে বর্জ্য ফেলার জন্য পলিথিন বিতরণ করা হয়।
একই সঙ্গে পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা করা হয়।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় মণ্ডপের আশপাশে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে জীবাণুমুক্ত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়।
স্থানীয়দের মতে, ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে এ ধরনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুধু পরিবেশ রক্ষাই নয়, সম্প্রীতি ও সামাজিক দায়িত্ববোধেরও দৃষ্টান্ত।
উৎসব শেষে যাতে ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে।
এ বিষয়ে মোহাম্মদ আজগর আলী বলেন, ‘আমার কাছে ধর্ম কোনো বিষয় নয়, আমি প্রথমে মনে করি আমি একজন মানুষ।
একজন মানুষ হয়ে মানুষের সেবা করব না, তা তো হয় না। হাতের পাঁচ আঙুল যেমন সমান নয়, তেমনি মানুষও এক রকম নয়; সবার মত ও পথ ভিন্ন হতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেক কিছুতেই সমস্যা নেই, আমি শুধু একটি বিষয়কে সমস্যা হিসেবে দেখি—আমাদের মধ্যে মতের পার্থক্য।
আমরা যদি সবাই বিভাজন ও বৈষম্য ভুলে হাতে হাত রেখে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সমাজের কাজে এগিয়ে আসি, তাহলে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা কঠিন নয়।’
সামনের নির্বাচন প্রসঙ্গে আজগর আলী বলেন, জনগণ চাইলে তিনি অবশ্যই জনগণের হয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন।
তবে নির্বাচন করবেন কি না, জয়ী হবেন নাকি পরাজিত হবেন—তা তাঁর কাছে মুখ্য নয়।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন করি বা না করি, জয়ী হই বা পরাজিত হই—মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমি জনগণের পাশে থাকতে চাই।
৩২ নম্বর ওয়ার্ডের হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষের কাছে আমার জন্য দোয়া চাই।
আল্লাহ যেন আমাকে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মানুষের সেবা করার সুযোগ দেন।’
ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে পরিচ্ছন্নতা ও জনসেবামূলক এ উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।